আগামী ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্ট মার্টিন। তবে পরিবেশ সুরক্ষায় সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার পর্যটক ভ্রমণ করতে পারবেন। নভেম্বর মাসে রাতে থাকার অনুমতি না থাকলেও ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে পর্যটকরা দ্বীপে রাত্রিযাপন করতে পারবেন, যা নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- আগামী ১ নভেম্বর থেকে সেন্ট মার্টিনে পর্যটক যাতায়াত শুরু হচ্ছে এবং প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার পর্যটক দ্বীপটিতে প্রবেশের অনুমতি পাবেন।
- পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার স্বার্থে নভেম্বর মাসে দ্বীপে কোনো পর্যটক রাতযাপন করতে পারবেন না, তবে ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে রাত্রিযাপনের সুযোগ রাখা হয়েছে।
- সেন্ট মার্টিন ভ্রমণের ক্ষেত্রে পরিবেশ অধিদপ্তর ও পর্যটন বোর্ডের বেঁধে দেওয়া নিয়মাবলী কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামী ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে দেশের প্রবালসমৃদ্ধ সৌন্দর্যমণ্ডিত দ্বীপ সেন্ট মার্টিন। তবে অতিরিক্ত পর্যটকদের চাপ ও পরিবেশগত অবক্ষয় রোধে সরকারের পক্ষ থেকে এবার কিছু কঠোর ও সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার পর্যটক এই দ্বীপে ভ্রমণ করতে পারবেন, যা আগের তুলনায় সীমিত।
পরিবেশ সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে পর্যটন মৌসুমেও কিছু বিশেষ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে নভেম্বর মাসে সেন্ট মার্টিনে কোনো পর্যটক রাতে অবস্থান করতে পারবেন না। তবে শীতের পূর্ণতা নিয়ে ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে পর্যটকরা দ্বীপে রাত্রিযাপনের অনুমতি পাবেন। এই নিয়মের ফলে দ্বীপের ভঙ্গুর পরিবেশ এবং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য কিছুটা হলেও সুরক্ষা পাবে বলে আশা করছেন পরিবেশবাদীরা।
সেন্ট মার্টিনে পর্যটক যাতায়াত ও রাত্রিযাপন নিয়ে এর আগে কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি হলেও প্রশাসনের তরফ থেকে পরিষ্কার বার্তা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পর্যটন অপারেটর এবং জাহাজ কর্তৃপক্ষকে সরকারের এসব নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। পর্যটকদের জাতীয় পরিচয়পত্র বা সঠিক নিবন্ধনের মাধ্যমে টিকিট সংগ্রহ করতে হবে এবং প্লাস্টিক দূষণ রোধে এককালীন ব্যবহার্য প্লাস্টিক বহনে নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।
দেশের পর্যটন শিল্পের বিকাশ এবং সেন্ট মার্টিনের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার মধ্যে একটি সুষম সমন্বয় সাধনের জন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে দ্বীপের প্রবাল, কাছিমের প্রজনন ক্ষেত্র এবং অনন্য সামুদ্রিক প্রতিবেশ দীর্ঘমেয়াদে সুরক্ষিত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। পর্যটকদেরও দায়িত্বশীল আচরণ প্রদর্শনের মাধ্যমে এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।