ভারতের নির্বাচন কমিশন সুপ্রিম কোর্টে দাখিল করা পাল্টা হলফনামায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কার্যপদ্ধতির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ খণ্ডন করেছে। কমিশন জানিয়েছে, এসআইআর সংক্রান্ত তিনটি আদেশই তিনজন সদস্যের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে গৃহিত হয়েছে। পাশাপাশি, ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় ফর্ম ৬ এবং অনলাইন ঘোষণাপত্র আলাদা করা হবে এবং সব ভোটারকে ব্যক্তিগত শুনানিতে হাজিরের প্রয়োজন নেই বলে স্পষ্ট করা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ভারতের নির্বাচন কমিশন সুপ্রিম কোর্টে জানিয়েছে যে, ২০২৫ সালের জুন ও অক্টোবর এবং ২০২৬ সালের মে মাসের এসআইআর আদেশগুলো মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারসহ তিন সদস্যের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে নেওয়া হয়েছে।
- নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করেছে যে 'ফর্ম ৬'-এ কোনও সংশোধনী আনা হয়নি এবং কেবল কেন্দ্রীয় সরকারই এতে পরিবর্তন আনতে পারে, তবে ২১ অক্টোবর থেকে অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়াটি ফর্ম ৬ ও ঘোষণাপত্রে বিভক্ত করা হবে।
- এসআইআর প্রক্রিয়ায় যেসব ভোটারের তথ্য যাচাই করা যায়নি, তাঁদের সবাইকে ব্যক্তিগত শুনানিতে হাজির হতে হবে না; বুথ লেভেল অফিসাররা (BLO) বাড়ি থেকেই নথিপত্র সংগ্রহ করবেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
নয়াদিল্লিতে ভারতের নির্বাচন কমিশন দেশটির সুপ্রিম কোর্টে একটি গুরুত্বপূর্ণ পাল্টা হলফনামা দাখিল করেছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের কার্যপদ্ধতিকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা একটি মামলার জবাবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কমিশনের দাবি, আবেদনটি সম্পূর্ণভাবে একটিমাত্র সংবাদ প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে তৈরি এবং এর পেছনে বাস্তবভিত্তিক কোনো জোরালো ভিত্তি নেই।
হলফনামায় কমিশন জোরালোভাবে জানিয়েছে যে, তাদের গৃহীত পদক্ষেপগুলো কোনো একক ব্যক্তির খামখেয়ালি নয়। ২০২৫ সালের জুন ও অক্টোবর এবং ২০২৬ সালের মে মাসে জারি করা তিনটি ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (এসআইআর) আদেশই ছিল তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিশনের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত। কোনো অফিসার ক্ষমতার অপব্যবহার করলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও কমিশন স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়েছে।
নির্বাচন প্রক্রিয়া ও নথিপত্র নিয়ে ওঠা বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে কমিশন জানিয়েছে, ‘ফর্ম ৬’-এ (Form 6) কোনো সংশোধনী আনা হয়নি, কারণ এই ধরনের পরিবর্তনের এখতিয়ার কেবল কেন্দ্রীয় সরকারের রয়েছে। তবে অনলাইনে প্রদর্শিত প্রক্রিয়া নিয়ে বিভ্রান্তি এড়াতে আগামী ২১ অক্টোবর থেকে অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়াটিকে ‘ফর্ম ৬’ এবং একটি আলাদা ঘোষণাপত্রে বিভক্ত করা হবে, যা কাগজের ফর্মের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।
সাধারণ ভোটারদের হয়রানি এড়াতে এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে বড় ধরণের স্বস্তির কথা জানিয়েছে কমিশন। জানানো হয়েছে, যেসব ভোটারের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তাঁদের সবাইকে বাধ্যতামূলকভাবে ব্যক্তিগত শুনানিতে হাজির হতে হবে না। এর পরিবর্তে বুথ লেভেল অফিসাররা (BLO) সরাসরি ভোটারদের বাড়ি থেকে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করবেন এবং অত্যন্ত বিশেষ ক্ষেত্র ছাড়া শুনানির প্রক্রিয়া অনলাইনে সম্পন্ন করার ওপর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।