ভোটচুরি ও এসআইআর বিতর্কের জেরে নয়াদিল্লিতে প্রতীকী মক পার্লামেন্টের আয়োজন করে প্রধান বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। লোকসভার প্রাক্তন স্পিকার মীরা কুমারের পরিচালনায় আয়োজিত এই অধিবেশনে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ‘ইমপিচ’ করার প্রস্তাব পাশ হয়। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে ও বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে আয়োজিত এই প্রতিবাদ সভায় জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলার দাবি তোলা হয়।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- প্রতীকী মক পার্লামেন্টে লোকসভার প্রাক্তন অধ্যক্ষ মীরা কুমারের পরিচালনায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ‘ইমপিচ’ করার প্রস্তাব তোলা হয় এবং তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলার দাবি জানান কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে।
- নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটচুরির ষড়যন্ত্র, ১৩.২ কোটি ভোটারের নাম বাদ দেওয়া, সংসদের অনুমতি ছাড়াই ফর্ম ৬ সংশোধন এবং প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে কাজ করার মতো মোট ছয়টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেশ করে বিরোধী জোট।
- আগামী দিনে ভোটচুরি ও এসআইআর প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিরাট জনসভার ডাক দিয়েছে ‘ইন্ডিয়া’ শিবির, যেখানে ১০ নম্বর রাজাজী মার্গ ও কনস্টিটিউশন ক্লাব থেকে যৌথ জমায়েতের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ভোটচুরি ও এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে দিল্লির পুরনো সংসদভবনের আদলে এক প্রতীকী মক পার্লামেন্টের আয়োজন করে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। লোকসভার প্রাক্তন স্পিকার মীরা কুমারের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ইমপিচ’ করা হয়। বিরোধী দলগুলির আনা এই প্রতীকী প্রস্তাবে জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি তোলা হয় এবং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দায়ের করার জোরালো দাবি জানান।
২০২৩ সালে কেন্দ্রীয় নরেন্দ্র মোদি সরকার আইন সংশোধন করে নির্বাচন কমিশনারদের আইনি রক্ষাকবচ প্রদান করায় সরাসরি আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে সাংবিধানিক ও আইনি বাধা রয়েছে। এই বাস্তবতায় বিরোধীরা প্রতীকী অধিবেশনের পথ বেছে নেন। অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে অভিযোগ করেন যে, বর্তমান নির্বাচন কমিশন শাসক দলের স্বার্থে কাজ করছে এবং ভোটাধিকার হরণের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করা হচ্ছে।
মক পার্লামেন্টে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে মোট ছয়টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেশ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ভোটচুরির ষড়যন্ত্র, ১৩.২ কোটি ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া, সংসদের অনুমতি ছাড়াই ফর্ম ৬ সংশোধন, ইসিিনেট (ECINET)-এর মাধ্যমে ভোটার তালিকা বাজেয়াপ্ত করা, অন্য দুই কমিশনারকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের বাইরে রাখা এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের এজেন্ডা বাস্তবায়ন। অধিবেশনে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আইনি রক্ষাকবচ দিয়েও মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে রক্ষা করা যাবে না।
এই ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-র পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, অনুপ্রবেশকারীদের আড়াল করতেই বিরোধীরা এসআইআর পদ্ধতির বিরোধিতা করছে। তবে বিরোধীরা এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, তাঁরা কোনো অনুপ্রবেশকারী নয়, বরং দেশের বৈধ ভোটারদের সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষার জন্যই এই লড়াইয়ে নেমেছেন। এই প্রতীকী অধিবেশনের পর আগামী রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ‘ইন্ডিয়া’ শিবির।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।