কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় হোটেল কর্মচারী রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকে কক্সবাজার থেকে আটক করেছে পুলিশ। গত রবিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে কলাতলী এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। এর আগে গত সপ্তাহে রিসোর্টে অবস্থান ও পালিয়ে যেতে সহায়তা করার অভিযোগে তাকে আটক করা হয়। মূল অভিযুক্ত সিএনজিচালক সুমন ইতোমধ্যে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- গত রবিবার (১২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকার একটি হোটেল থেকে রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকে আটক করে পুলিশ।
- হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত সিএনজিচালক সুমন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
- গত বুধবার রাতে কুমিল্লা পদুয়ারবাজার বিশ্বরোড থেকে সিএনজিতে তোলার পর লালমাই উপজেলার ভোরালজগতপুর উত্তরপাড়ার নির্জন ধানক্ষেতে নিয়ে তাকে ধর্ষণ ও গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
কুমিল্লার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন (১৫) চাঞ্চল্যকর ধর্ষণ ও হত্যা মামলার তদন্তে বড় অগ্রগতি হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকার একটি হোটেলের কর্মচারী রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকে আটক করেছে পুলিশ। রবিবার (১২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। এর আগে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ওই স্কুলছাত্রী কলাতলীর মেঘলা রিসোর্ট নামে একটি আবাসিক হোটেলে ওঠে এবং হোটেলটিতে অবস্থান করতে রাজু তাকে সহায়তা করেছিল বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় জানা যায়, গত বুধবার বেলা ১১টার দিকে হোটেল ছেড়ে কুমিল্লায় ফেরেন তাজমিন। ওই দিন রাত পৌনে ১২টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ারবাজার রোডের হোটেল নূরজাহানের সামনে বাস থেকে নেমে শহরের রেসকোর্স এলাকার বাসায় যাওয়ার জন্য একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করেন তিনি। সিএনজিচালক সুমন তাকে গন্তব্যে না নিয়ে লালমাই উপজেলার ভোরালজগতপুর উত্তরপাড়ার একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।
ঘটনার পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় একটি ধানক্ষেতের আইল থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের পরপরই প্রযুক্তির সহায়তায় চট্টগ্রাম থেকে মূল অভিযুক্ত চালক সুমনকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে সুমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের ব্যবহৃত আইফোনটিও উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, অভিযুক্ত চালক সুমন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল ও নিহতের পরিবার গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোনের কল লিস্ট, সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণাদি নিয়ে অধিকতর তদন্ত অব্যাহত রেখেছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মামলার সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুত আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।