বাংলাদেশ সরকার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপনের নিয়মে পরিবর্তন এনে নতুন পরিপত্র জারি করেছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এখন থেকে মোট ৯২টি দিবস তিনটি শ্রেণিতে (ক, খ ও গ) পালিত হবে। এর মধ্যে 'ক' শ্রেণিতে ১৮টি, 'খ' শ্রেণিতে ৩৯টি এবং 'গ' শ্রেণিতে ৩৫টি দিবস অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নতুন তালিকায় ৭ নভেম্বর ও ৬ জুলাই যুক্ত হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা নতুন পরিপত্র অনুযায়ী দেশে এখন থেকে মোট ৯২টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস সরকারিভাবে পালন করা হবে, যা তিনটি শ্রেণিতে বিভক্ত।
- দিবসগুলোর মধ্যে 'ক' শ্রেণিতে ১৮টি, 'খ' শ্রেণিতে ৩৯টি এবং 'গ' শ্রেণিতে ৩৫টি দিবস রাখা হয়েছে, যেখানে 'ক' শ্রেণিতে নতুন করে ৭ নভেম্বর 'জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস' যুক্ত হয়েছে।
- ব্যয় সংকোচনের স্বার্থে 'খ' শ্রেণির দিবস আয়োজনে সরকারি খাত থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা খরচ করা যাবে এবং 'গ' শ্রেণির দিবস পালনে উন্নয়ন খাত থেকে কোনো বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হবে না।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
বাংলাদেশ সরকার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপনের ক্ষেত্রে নতুন পরিপত্র জারি করেছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে রোববার প্রকাশিত এই পরিপত্র অনুযায়ী, এখন থেকে দেশে সরকারিভাবে মোট ৯২টি দিবস পালিত হবে। এর মাধ্যমে গত ১১ মার্চের আগের পুরনো পরিপত্রটি বাতিল করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দিবসগুলোকে আগের মতো 'ক', 'খ' এবং 'গ'—এই তিন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। যার মধ্যে 'ক' শ্রেণিতে ১৮টি, 'খ' শ্রেণিতে ৩৯টি এবং 'গ' শ্রেণিতে ৩৫টি দিবস অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
নতুন এই পরিপত্রে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন ও পরিবর্তন আনা হয়েছে। মন্ত্রিসভার পূর্বসিদ্ধান্ত অনুযায়ী 'ক' শ্রেণিতে নতুন করে ৭ নভেম্বর 'জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস' যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া 'খ' শ্রেণিতে ৬ জুলাই 'জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস' নতুন অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং জাতীয় চা দিবসের তারিখ ৪ জুনের পরিবর্তে পরিবর্তন করে ২১ মে নির্ধারণ করা হয়েছে। দিবস পালন উপলক্ষে অতিরিক্ত সাজসজ্জা ও বড় ধরনের আয়োজন যথাসম্ভব এড়িয়ে চলার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ব্যয় নিয়ন্ত্রণে পরিপত্রে সুনির্দিষ্ট আর্থিক সীমারেখা টেনে দেওয়া হয়েছে। 'ক' শ্রেণির দিবস পালনে নির্দিষ্ট কোনো খরচের সীমা উল্লেখ না থাকলেও, 'খ' শ্রেণির দিবস আয়োজনে সরকারি খাত থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা খরচ করা যাবে। অন্যদিকে, 'গ' শ্রেণির দিবস পালনে উন্নয়ন খাত থেকে কোনো বিশেষ আর্থিক বরাদ্দ দেওয়া হবে না। কর্মদিবসে জনদুর্ভোগ এড়াতে সমাবেশ বা শোভাযাত্রা পরিহার করার এবং জেলা পর্যায়ের কর্মচারীদের ঢাকায় আনা যথাসম্ভব এড়িয়ে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও শিক্ষা সপ্তাহ, প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ, বিজ্ঞান সপ্তাহ, মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ (১-৭ আগস্ট), শিশু সপ্তাহ (২৯ সেপ্টেম্বর-৫ অক্টোবর), সশস্ত্র বাহিনী দিবস (২১ নভেম্বর) এবং বৃক্ষরোপণ অভিযানের মতো বিশেষ সপ্তাহগুলো পালনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে প্রধানমন্ত্রীর পূর্বানুমোদন ও নির্দেশনা নেওয়ার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতায় শৃঙ্খলা ফেরার পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় ব্যয় অনেকাংশে হ্রাস পাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।