ভারতের শেয়ার বাজারে ভয়াবহ ধসে একদিনে বিনিয়োগকারীরা ১০ লাখ ৫২ হাজার কোটি টাকা হারিয়েছেন। বৃহস্পতিবার বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের সেনসেক্স ১ দশমিক ৬৯ শতাংশ বা ১ হাজার ২৩১ পয়েন্ট কমে ৭১ হাজার ৪০৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, নিফটি ৫০ সূচক ৪১৩ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৮২ শতাংশ পতন হয়ে ২২ হাজার ১৯০ পয়েন্টে নেমে এসেছে। রিজার্ভ ব্যাংকের নীতি সুদহার বৃদ্ধি এবং বিদেশি বিনিয়োগ প্রত্যাহারের কারণে এই ধস নামে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- বৃহস্পতিবার একদিনেই ভারতীয় শেয়ার বাজারের বিনিয়োগকারীরা মোট ১০ লাখ ৫২ হাজার কোটি টাকা হারিয়েছেন, যেখানে বিএসই তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর বাজার মূলধন কমে ৪ কোটি ৬১ লাখ ৮৩ হাজার কোটি টাকায় নেমেছে।
- বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের (বিএসই) প্রধান সূচক সেনসেক্স ১ হাজার ২৩১ দশমিক ৯১ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৬৯ শতাংশ কমে ৭১ হাজার ৪০৬ পয়েন্টে এবং নিফটি ৫০ সূচক ৪১৩ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৮২ শতাংশ কমে ২২ হাজার ১৯০ পয়েন্টে ঠেকেছে।
- রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া কর্তৃক রেপো রেট ২৫ বেসিস পয়েন্ট বৃদ্ধি, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের (এফআইআই) শেয়ার বিক্রি এবং অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ার কারণে এই রেকর্ড পতন ঘটেছে বলে বাজার বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ভারতের শেয়ার বাজারে ফের এক ভয়াবহ ধসের সাক্ষী হলেন বিনিয়োগকারীরা। গত সপ্তাহের ধারাবাহিক পতনের পর বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক মেয়াদ শেষের দিনে (উইকলি এক্সপায়ারি) বাজারে এই বড় ধস নামে। এদিন বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের (বিএসই) প্রধান সূচক সেনসেক্স ১ হাজার ২৩১ দশমিক ৯১ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৬৯ শতাংশ কমে ৭১ হাজার ৪০৬ পয়েন্টে নেমে আসে। এর চেয়েও খারাপ অবস্থা হয় ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের নিফটি ৫০ সূচকের, যা ১ দশমিক ৮২ শতাংশ বা ৪১৩ পয়েন্ট কমে ২২ হাজার ১৯০ পয়েন্টে গিয়ে ঠেকে।
টানা বাল্ক সেলিং বা পাইকারি বিক্রির জেরে এক দিনেই ভারতীয় শেয়ার বাজার থেকে ১০ লাখ ৫২ হাজার কোটি টাকা উধাও হয়ে গেছে। গত বুধবার বাজার বন্ধের সময় বিএসই-র তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মোট বাজার মূলধন ছিল ৪ কোটি ৭২ লাখ ৩৫ হাজার ২৭৩ কোটি টাকা, যা এক দিনেই কমে দাঁড়ায় ৪ কোটি ৬১ লাখ ৮৩ হাজার ৬৫৯ কোটি টাকায়। সপ্তাহের শুরুতে বাজার ইতিবাচক ধারায় থাকলেও মঙ্গলবার থেকে নিম্নমুখী প্রবণতা শুরু হয় এবং বৃহস্পতিবার তা বড় বিপর্যয়ের রূপ নেয়।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই বড় পতনের পেছনে একাধিক অর্থনৈতিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় কারণ হলো ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার (আরবিআই) রেপো রেট ২৫ বেসিস পয়েন্ট বৃদ্ধি। এর পাশাপাশি দেশীয় বাজার থেকে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বড় অংকের মূলধন তুলে নেওয়া, অপরিশোধিত তেলের আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য বৃদ্ধি এবং মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় মুদ্রার পতন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বর্তমান বাজার পরিস্থিতি এতটাই নাজুক যে সেনসেক্স ও নিফটি এখনও তাদের পতনের নির্দিষ্ট তলানি বা বেস খুঁজে পায়নি। অনেক বাজার বিশেষজ্ঞ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এই ধারা অব্যাহত থাকলে নিফটি ৫০ সূচক ২১ হাজার পয়েন্টের নিচে নেমে যেতে পারে। ফলে সূচকটিকে তার পূর্বের রেকর্ড উচ্চতায় ফিরিয়ে আনতে দীর্ঘ সময় এবং ইতিবাচক অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রয়োজন হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।