স্ত্রীর মরদেহ বাড়িতে রেখে ফজরের নামাজ আদায় করতে গিয়ে মসজিদেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন এক স্বামী। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে গত শুক্রবার ভোরে। দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর স্ত্রীর মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে স্বামীর এই আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। পরে একই সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর জানাজা সম্পন্ন করা হয়।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- গত শুক্রবার ভোরে বাড়িতে স্ত্রীর মরদেহ রেখে মসজিদে ফজরের নামাজ পড়তে যান শোকার্ত স্বামী।
- নামাজ শেষে মসজিদ প্রাঙ্গণেই হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে স্বামীর মৃত্যু হয় বলে পারিবারিক সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
- প্রিয়জন হারানোর শোকে একসঙ্গে স্বামী ও স্ত্রীর জানাজা সম্পন্ন হওয়ায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
স্ত্রীর মরদেহ বাড়িতে রেখে মসজিদে ফজরের নামাজ আদায় করতে গিয়ে মসজিদেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন এক শোকাহত স্বামী। গত শুক্রবার ভোরে ঘটা এই মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনায় পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দীর্ঘদিনের অসুস্থতা এবং দাম্পত্য জীবনের গভীর ভালোবাসার টানে স্ত্রীর চলে যাওয়ার শোক সইতে না পেরে এই আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগে ওই গৃহবধূ মারা যান। মৃত্যুর পর তাঁর মরদেহ যখন বাড়িতে দাফনের প্রস্তুতি চলছিল, তখন তাঁর স্বামী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। এর মাঝেই গত শুক্রবার ভোরে আজান পড়ার পর তিনি স্ত্রীর মরদেহের কাছ থেকে উঠে পাশের মসজিদে যান ফজরের নামাজ আদায় করার জন্য।
নামাজ শেষ হওয়ার পরপরই মসজিদেই হঠাৎ অসুস্থবোধ করেন ওই স্বামী এবং সেখানেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয় মুসল্লিরা দ্রুত তাঁর কাছে গিয়ে তাঁকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। চিকিৎসকদের ধারণা, স্ত্রীর মৃত্যুর তীব্র শোক এবং মানসিক চাপের কারণেই তাঁর ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক বা হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে।
পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পরিবারের পক্ষ থেকে ওই স্বামী ও স্ত্রী উভয়ের মরদেহ পাশাপাশি রেখে একই সঙ্গে জানাজার নামাজ সম্পন্ন করা হয়। একসঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর এমন করুণ ও আকস্মিক প্রয়াণে জানাজায় অংশ নেওয়া হাজারো মানুষের চোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে ওঠে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।