আসন্ন কলকাতা পুরভোটকে সামনে রেখে ২০৯টি ওয়ার্ডেই এককভাবে লড়ার ঘোষণা দিয়েছে বিজেপি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার জানিয়েছেন, পুরনো কার্যকর্তাদের পাশাপাশি সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও প্রার্থী হতে পারবেন। তবে তৃণমূলের প্রাক্তন কাউন্সিলরদের টিকিট দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি সরাসরি নাকচ না করে বলেছেন, রাজনীতিতে অসম্ভব কিছুই নেই, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনার সৃষ্টি হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- আসন্ন কলকাতা পুরভোটে এনসিপিআইয়ের সঙ্গে কোনো জোট নয়, বরং ২০৯টি ওয়ার্ডেই এককভাবে পদ্মফুল প্রতীকে লড়াই করবে বিজেপি।
- প্রার্থী হওয়ার জন্য আগ্রহীদের আগামী ২৬ অক্টোবর বিকেল ৫টার মধ্যে আবেদনপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে দল।
- তৃণমূলের প্রাক্তন কাউন্সিলরদের টিকিট দেওয়া প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার জানান, পুরনো কার্যকর্তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হলেও 'রাজনীতিতে অসম্ভব কিছুই নেই'। তুলনামূলকভাবে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ভিন্ন অবস্থান ব্যক্ত করেছেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
আসন্ন কলকাতা পুরনিগম নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ বাড়ছে। সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিজেপি ঘোষণা করেছে যে তারা অন্য কোনো দলের সঙ্গে জোট বাঁধছে না, বরং কলকাতার মোট ২০৯টি ওয়ার্ডেই এককভাবে পদ্মফুল প্রতীকে লড়বে। সম্প্রতি এক সাংবাদিক বৈঠকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার দলের এই কৌশলগত অবস্থানের কথা স্পষ্ট করেন। একই সঙ্গে প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে দলের পুরনো এবং নিবেদিতপ্রাণ কার্যকর্তা ও কর্মীদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি।
পুরভোটের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করার জন্য দলের পক্ষ থেকে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। আগ্রহী এবং সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের আগামী ২৬ অক্টোবর বিকেল ৫টার মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদনপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি, স্থানীয় জনগণের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা এবং নির্বাচনে জয়ের সম্ভাবনাকেই প্রধান মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর জন্য বুথ স্তর থেকে শুরু করে সাংগঠনিক স্তরে চুলচেরা বিশ্লেষণ ও তথ্য যাচাই চলছে।
তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের বেশ কয়েকজন প্রাক্তন কাউন্সিলরের বিজেপিতে যোগদান ও আসন্ন নির্বাচনে তাদের টিকিট পাওয়ার গুঞ্জন। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে যখন সুকান্ত মজুমদারকে প্রশ্ন করা হয় যে তৃণমূলের প্রাক্তন কাউন্সিলরদের দল প্রার্থী করবে কি না, তখন তিনি সরাসরি কোনো অস্বীকৃতি জানাননি। বরং তার মন্তব্য ছিল, “রাজনীতিতে অসম্ভব বলে কিছুই হয় না।” তার এই রহস্যজনক মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে নানা সমীকরণের জন্ম দিয়েছে।
অন্যদিকে, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এই বিষয়ে কিছুটা ভিন্ন সুর গেয়ে দাবি করেছেন যে মানুষ জামা পরিবর্তনের জন্য নয়, বরং প্রকৃত পরিবর্তনের জন্যই ভোট দেয়। তা সত্ত্বেও, সুকান্ত মজুমদারের এই রাখঢাক না রাখা মন্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে প্রয়োজনে দলবদলু হেভিওয়েটদের ক্ষেত্রে গেরুয়া শিবির নমনীয় অবস্থান নিতে পারে। শেষ পর্যন্ত কার কার নাম প্রার্থী তালিকায় স্থান পায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।