ভারতের রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্রের তীব্র সমালোচনা করে ৪জি, ৩জি ও ২জি তত্ত্বের ব্যাখ্যা দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। শিলিগুড়ির এক সমাবেশে তিনি নেহরু-গান্ধী পরিবারকে ৪জি এবং দেশের বিভিন্ন আঞ্চলিক রাজনৈতিক পরিবারের উদাহরণ দিয়ে ৩জি ও ২জি হিসেবে চিহ্নিত করেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পরিবারবাদ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- শুভেন্দু অধিকারী জওহরলাল নেহরু, ইন্দিরা গান্ধী, রাজীব গান্ধী ও রাহুল গান্ধীকে ভারতীয় রাজনীতির '৪জি' পরিবার হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
- জম্মু ও কাশ্মীরের আব্দুল্লাহ পরিবার এবং তামিলনাড়ুর করুণানিধি পরিবারকে '৩জি' রাজনৈতিক পরিবার হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
- '২জি'র উদাহরণ হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, মুলায়ম সিং যাদব পরিবার ও লালু প্রসাদ যাদবের নাম উল্লেখ করেন শুভেন্দু।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ভারতের রাজনীতিতে পরিবারবাদ এবং বংশানুক্রমিক শাসন নিয়ে বরাবরই সোচ্চার হয়ে আসছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। সোমবার কলকাতার পর শিলিগুড়িতে আয়োজিত এক বিশেষ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে এই ইস্যুতে নতুন তত্ত্ব তুলে ধরেন পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারসহ দলের অন্যান্য শীর্ষ নেতারা। সেখানে দেওয়া ভাষণে তিনি ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিবারের বংশলতিকা টেনে আক্রমণ শানান।
শুভেন্দু অধিকারী তাঁর বক্তব্যে ৪জি, ৩জি ও ২জি তত্ত্বর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন, দেশের রাজনীতিতে বংশপরম্পরায় ক্ষমতা হস্তান্তরের ধারা চলে আসছে। তাঁর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, নেহরু-গান্ধী পরিবার হলো '৪জি', যেখানে চার প্রজন্ম ধরে দেশ শাসন বা দলের নেতৃত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, জম্মু ও কাশ্মীরের শেখ আব্দুল্লাহ, ফারুক আব্দুল্লাহ, ওমর আব্দুল্লাহ এবং তামিলনাড়ুর করুণানিধি, এম কে স্ট্যালিন ও উদয়নিধি স্ট্যালিনের পরিবারকে তিনি '৩জি' হিসেবে অভিহিত করেন।
তত্ত্বের শেষ ধাপে এসে '২জি' রাজনীতির উদাহরণ টানতে গিয়ে তিনি পশ্চিমবঙ্গের শাসকদলের প্রসঙ্গ তোলেন। শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পিসি-ভাইপো জুটি ছাড়াও উত্তরপ্রদেশের মুলায়ম সিং যাদব-অখিলেশ যাদব, বিহারের লালু প্রসাদ যাদব-তেজস্বী যাদব এবং জম্মু ও কাশ্মীরের মুফতি ও মেহবুবা মুফতির পরিবার এই '২জি'র অন্তর্ভুক্ত। এর বিপরীতে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রসঙ্গ টেনে বলেন, মোদীজির কোনো পারিবারিক 'জি' বা উত্তরাধিকার নেই, যাঁর কাছে দেশই সব।
শিলিগুড়ির এই সমাবেশে রাজনৈতিক আক্রমণের পাশাপাশি একাধিক স্থানীয় প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়িবাসীকে আশ্বস্ত করে তিনি জানান, কলকাতার বা দক্ষিণবঙ্গের নেতা বলে তাঁদের কখনোই বঞ্চিত হতে দেওয়া হবে না। এমনকি উত্তরবঙ্গে উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে আইআইটি-র মতো উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি, যা স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।