অবৈধভাবে মেরিন ড্রাইভের সংরক্ষিত এলাকায় গড়ে তোলার অভিযোগে কক্সবাজারে প্রায় ছয় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত চারতলা বিশিষ্ট একটি বিলাসবহুল রিসোর্ট গুঁড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসন। যথাযথ অনুমোদনের কাগজ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় গত মঙ্গলবার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়, যা স্থানীয় পর্যটন মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ছয় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি চারতলা রিসোর্ট সম্পূর্ণ অবৈধ ঘোষণা করে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
- রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো ধরনের বৈধ কাগজপত্র বা স্থাপনা নির্মাণের অনুমোদনপত্র দেখাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়।
- উপজেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়, যা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের প্রমাণ।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
কক্সবাজারের সামুদ্রিক পরিবেশ রক্ষার্থে ও অবৈধ দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে প্রায় ছয় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি চারতলা রিসোর্ট সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। মেরিন ড্রাইভের মতো সংবেদনশীল ও সংরক্ষিত এলাকায় কোনো ধরনের আইনগত বৈধতা ছাড়াই এই স্থাপনাটি গড়ে তোলা হয়েছিল, যা স্থানীয় পরিবেশবাদীদের দীর্ঘদিনের উদ্বেগের কারণ ছিল।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, রিসোর্টটির মালিকপক্ষ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের কোনো অনুমোদন বা ছাড়পত্র না নিয়েই বিলাসবহুল এই ভবনটি নির্মাণ করেছিল। পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করে পাহাড় ও উপকূলীয় ভূমি দখল করে গড়ে ওঠা এ ধরনের স্থাপনা কক্সবাজারের জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।
অভিযানের সময় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বারবার নোটিশ দেওয়া সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষ বৈধ কাগজ দেখাতে পারেনি। এর ফলে জনস্বার্থে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে স্কেভেটর দিয়ে চারতলা ভবনটি সম্পূর্ণ মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয়।
এই কঠোর পদক্ষেপে কক্সবাজারের পর্যটন খাতে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে পর্যটন ব্যবসায়ীদের একাংশের মতে, সঠিক নিয়ম মেনে বিনিয়োগ করলে এ ধরনের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হতো। প্রশাসন জানিয়েছে, পরিবেশ ধ্বংসকারী সব অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।