বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরির রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতার শাহরিয়ার রেজা দীপকে চার দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। গত ২৭শে অক্টোবর উত্তরার বাসা থেকে বের হওয়ার পরদিন তুরাগ নদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের বাবার করা হত্যা মামলায় তদন্তকারীরা মোবাইল ফোনের ফরেনসিক এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হত্যার মূল রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চালাচ্ছেন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলায় গ্রেফতার শাহরিয়ার রেজা দীপকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত; এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন।
- গত ২৭শে অক্টোবর সন্ধ্যায় উত্তরার বাসা থেকে বের হওয়ার পরদিন ২৮শে অক্টোবর বিকেলে তুরাগ নদের রাজারবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে ভাসমান অবস্থায় সাউরির মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং নিহতের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম উত্তরখান থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
- তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, সাউরির মরদেহের সঙ্গে উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড ও ফরেনসিক পরীক্ষা এবং সিসিটিভি ফুটেজে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় তার শেষ উপস্থিতি যাচাই করে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরির রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় দায়েরকৃত হত্যা মামলায় গ্রেফতার শাহরিয়ার রেজা দীপকে চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন আদালতে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করলেও শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গত ২৭শে অক্টোবর সন্ধ্যায় উত্তরার বাসা থেকে নিখোঁজ হওয়ার পরদিন ২৮শে অক্টোবর বিকেলে তুরাগ নদের রাজারবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে সাউরির ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় নিহতের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম বাদী হয়ে উত্তরখান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহার ও প্রাথমিক তদন্ত সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় দীপ নামক এক জুনিয়রের ডাকে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন তাহসিফ সাউরি। রাতে বাড়ি না ফেরায় তার মা যোগাযোগ করলে মেসেঞ্জারে ভয়েস মেসেজে তিনি ফেরার কথা জানান, কিন্তু আর ফেরেননি। পরবর্তীতে তুরাগ নদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধারের পর চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের আন্দোলনের সময় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ধারণ করার কারণে তাকে হত্যা করা হতে পারে। তবে সরকারের নীতিনির্ধারক ও তদন্তকারীরা এই তথ্যগুলো সঠিক নয় বলে প্রাথমিক ধারণা করছেন এবং বিষয়টিকে অত্যন্ত স্পর্শকাতর হিসেবে বিবেচনা করে নিবিড় তদন্ত চালাচ্ছেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তাহসিফ সাউরির মরদেহের সঙ্গে উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনটি এই মামলার তদন্তের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। বাসা থেকে বের হওয়া থেকে শুরু করে মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত কার কার সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়েছিল, তা জানতে ফোনটির ফরেনসিক পরীক্ষা চালাচ্ছে দুটি বিশেষ সংস্থা। এছাড়া গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, সাউরি ও দীপ উত্তরায় এবং পরবর্তীতে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় একসঙ্গে গেলেও পরবর্তীতে দীপ একাই মোটরসাইকেলে ফিরে আসেন। মাজার বস্তি ও এর আশপাশের এলাকাগুলো বর্তমানে মাদকের হটস্পট হিসেবে পরিচিত হওয়ায়, সেখানে তাদের যাওয়ার নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ বা অপরাধ চক্রের সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে দীপের প্রাথমিক বয়ান ও ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন খোদ নিহতের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম। সাংবাদিকদের তিনি জানান, দীপ তার ছেলেকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল এবং পরবর্তীতে একেক সময় একেক রকম তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করেছে। পুলিশের ধাওয়া খেয়ে নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার যে তত্ত্ব সামনে আনা হচ্ছে, তাকে 'বোগাস' ও হাস্যকর বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। একজন সাবেক কমিশন্ড অফিসার এভাবে পালিয়ে বেড়ানোর কথা নয় বলে দাবি করেন তিনি। রিমান্ডে থাকা দীপকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ এবং মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড ও ভিডিও ফুটেজের ফরেনসিক রিপোর্ট হাতে আসলে এই হত্যাকাণ্ডের আসল রহস্য এবং এর সঙ্গে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের মুখোশ উন্মোচিত হবে বলে আশা করছেন তদন্তকারীরা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।