নতুন পে-স্কেলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তিন মাসের বকেয়াসহ বেতন পরিশোধের প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে আগামী রোববার। তবে অর্থ সংকটের কারণে ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে হচ্ছে সরকারকে। পাশাপাশি জটিলতা ও প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতার কারণে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত এবং নির্দিষ্ট কিছু দপ্তরের কর্মীরা এই দফায় বর্ধিত অর্থ বা বকেয়া সুবিধা পাচ্ছেন না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- আগামী রোববার থেকে নতুন পে-স্কেলের আওতায় সরকারি কর্মচারীদের তিন মাসের বকেয়াসহ বেতন বিতরণ শুরু হবে।
- চলমান অর্থ সংকট মেটাতে এবং বকেয়া পরিশোধ করতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে বিশেষ ঋণ নিচ্ছে সরকার।
- প্রশাসনিক জটিলতা ও সুনির্দিষ্ট প্রজ্ঞাপনের শর্তের কারণে অনেক চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বর্ধিত অর্থ পাচ্ছেন না।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বহুল প্রত্যাশিত নতুন পে-স্কেলে বেতন এবং গত তিন মাসের বকেয়া ভাতা পরিশোধের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়েছে। আগামী রোববার থেকেই ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এই অর্থ জমা হতে শুরু করবে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। দীর্ঘ অর্থনৈতিক টানাপোড়েন ও মূল্যস্ফীতির বাজারে কর্মচারীদের আর্থিক স্বস্তি দিতে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে এই পেমেন্ট প্রক্রিয়ার আওতায় সব কর্মী আসছেন না। অর্থ সংকটের তীব্রতার কারণে সরকারকে শেষ পর্যন্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ নিয়ে এই বিশাল অংকের বকেয়া পরিশোধ করতে হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন দপ্তরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং কিছু নির্দিষ্ট প্রকল্পের জনবল নিয়মতান্ত্রিক জটিলতার কারণে এই দফায় বর্ধিত বেতন ও বকেয়া সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপনে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ক্ষেত্রে কিছু সুনির্দিষ্ট শর্ত থাকায় হিসাব রক্ষণ অফিসে জটিলতা তৈরি হয়েছে। অনেক দপ্তরের অডিট বা হিসাব শাখা থেকে ছাড়পত্র না পাওয়ায় এই জটিলতা আরও দীর্ঘায়িত হয়েছে। ফলে বৈধ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ পেয়েও নির্ধারিত সময়ে বর্ধিত অর্থ হাতে না পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে বেতন ও বকেয়া পরিশোধের এই প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে দেশের ব্যাংক খাতের তারল্য ও সরকারি ঋণের ওজনের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে। সরকারের রাজস্ব আদায়ে ধীরগতির কারণে বাজেট ব্যবস্থাপনায় যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা মেটানোর স্থায়ী সমাধান না হলে আগামীতে এ ধরনের আর্থিক সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।