শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সকৃবি) শিক্ষার্থীরা পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠ দখলমুক্ত করতে মাইকে ঘোষণা দিয়ে ট্র্যাক্টর ও ভেকু নিয়ে মাঠে প্রবেশ করেন এবং সেখানে থাকা অবৈধ অস্থায়ী স্থাপনা ও গেট গুঁড়িয়ে দেন। দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ঐতিহাসিক এই মাঠটি বেদখল থাকায় ক্যাম্পাসের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলেন এবং মাঠটি সম্পূর্ণ পুনরুদ্ধারের দাবি জানান।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সকৃবি) শত শত শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে উপস্থিত হন এবং অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করেন।
- শিক্ষার্থীরা ভারী যন্ত্রপাতি যেমন ট্রাক্টর ও ভেকু বা এস্কেভেটর ব্যবহার করে মাঠে থাকা বিভিন্ন গেট ও অবশিষ্ট অস্থায়ী স্টলগুলো ভেঙে গুঁড়িয়ে দেন।
- মাঠ পুনরুদ্ধারের দাবিতে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা মাইকে ঘোষণা দিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠ হিসেবে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সকৃবি) সংলগ্ন ঐতিহাসিক পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠ পুনরুদ্ধারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আকস্মিক আন্দোলন ও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছেন। পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সাধারণ শিক্ষার্থীরা মাইকে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে দলবদ্ধভাবে মাঠে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা মাঠটি দখলমুক্ত করার ঘোষণা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ কাজ থেকে আনা ভারী ট্র্যাক্টর ও ভেকু (এক্সকাভেটর) ব্যবহার করে বাণিজ্য মেলার অবশিষ্ট অস্থায়ী স্থাপনা ও প্রধান গেটগুলো ভেঙে গুঁড়িয়ে দেন।
গত কয়েক বছর ধরে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা পূর্বাচলে স্থানান্তরিত হলেও শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন মাঠের একাংশ ও বিভিন্ন অস্থায়ী অবকাঠামো রয়ে গিয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই মাঠটি তাদের খেলার মাঠ ও অ্যাকাডেমিক সম্প্রসারণের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় শিক্ষার্থীরা নিজেরাই আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে সরাসরি মাঠে নেমে এসে অবৈধ দখল উচ্ছেদের এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেন।
উচ্ছেদ চলাকালীন শিক্ষার্থীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রম ও প্যারেড মাঠের অভাবে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। তাই বাধ্য হয়েই তারা নিজেদের উদ্যোগে এই প্রাচীন মাঠটির দখল পুনরুদ্ধারের জন্য মাঠে নেমেছেন। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও শিক্ষার্থীদের তীব্র ক্ষোভ ও যৌক্তিক দাবির মুখে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তারা নীরব ভূমিকা পালন করেন।
কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এই আকস্মিক ও কঠোর পদক্ষেপের ফলে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠের ভবিষ্যৎ এবং এর প্রাতিষ্ঠানিক মালিকানা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত এই সংকট নিরসন করে মাঠটির স্থায়ী বন্দোবস্ত এবং শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের উপযোগী করার জন্য সুনির্দিষ্ট রূপরেখা ঘোষণা করবে বলে আশা করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।