ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক ছাত্রের বিরুদ্ধে সহপাঠীদের যৌন হয়রানি ও এআই দিয়ে অশ্লীল ছবি তৈরির অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠেছে শিক্ষাঙ্গন। অভিযুক্তের বাবা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ডিন হওয়ায় বিচারহীনতার আশঙ্কায় শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করছে। গত ২৭ দিন ধরে নিরাপত্তাহীনতায় ১০ জন ছাত্রী ক্লাসে অনুপস্থিত রয়েছে এবং সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানানো হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক ছাত্রের বিরুদ্ধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে সহপাঠী ছাত্রীদের বিকৃত ও অশ্লীল ছবি তৈরি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে।
- অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বাবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষদের ডিন হওয়ায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা।
- যৌন হয়রানি ও মানসিক নিপীড়নের শিকার হয়ে গত ২৭ দিন ধরে বিদ্যালয়ের ১০ জন ছাত্রী ক্লাসে আসা বন্ধ করে দিয়েছে, যার প্রতিবাদে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ‘ওর বাবা ডিন হলে আমাদের কি বাবা রিকশাওয়ালা?’ স্লোগানে বিক্ষোভ করেছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অবস্থিত উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক ছাত্রের বিরুদ্ধে সহপাঠী ছাত্রীদের যৌন হয়রানি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে অশ্লীল ছবি তৈরির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অভিযুক্ত ছাত্র দীর্ঘদিন ধরে নারী সহপাঠীদের উত্যক্ত করে আসছিল এবং সম্প্রতি প্রযুক্তির অপব্যবহার করে তাদের ছবি বিকৃত করে ছড়িয়ে দিয়েছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ছাত্রীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপটে জানা যায়, অভিযুক্ত ছাত্রের বাবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রভাবশালী ডিন। এই পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে অভিযুক্ত ছাত্র পার পেয়ে যাচ্ছে বলে আন্দোলনকারীদের দাবি। গত ২৭ দিন ধরে ১০ জন ভুক্তভোগী ছাত্রী লোকলজ্জা ও আতঙ্কে বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করে দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে ‘ওর বাবা ডিন হলে আমাদের কি বাবা রিকশাওয়ালা?’—এমন স্লোগান বিচারহীনতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে।
অভিভাবকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উল্টো ভুক্তভোগীদেরই নানাভাবে চাপের মুখে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, বিদ্যালয় প্রশাসন বলছে তারা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে এবং বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে শিক্ষার্থীরা অবিলম্বে অভিযুক্তের বহিষ্কার এবং সাইবার অপরাধের সুষ্ঠু বিচার দাবি করছে।
এই ঘটনাটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাইবার বুলিং এবং প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপের একটি নেতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে সামনে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে কঠোর আইন প্রয়োগ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি বিরোধী সেলগুলোকে আরও সক্রিয় করা জরুরি। উদয়ন স্কুলের এই আন্দোলন এখন কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবি জোরালো করেছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।