লাইভ
বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ ও নিরপেক্ষ বিশ্লেষণের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম
প্লে-স্টোর অ্যাপ

ভারতে স্টারলিংকের প্রবেশে বাধা, আম্বানিকে কেন দুষছেন মাস্ক?

প্রতিবেদক: অনলাইন ডেস্ক | তারিখ: 09 অক্টোবর 2026, 11:03 দুপুর | পড়ার সময়: 1 মিনিট | 38 বার পঠিত
ভারতে স্টারলিংকের প্রবেশে বাধা, আম্বানিকে কেন দুষছেন মাস্ক?
প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ

ভারতের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বাজারে প্রবেশে বিলম্বের জন্য ধনকুবের মুকেশ আম্বানি ও আদানি গ্রুপকে দায়ী করেছেন টেসলার প্রধান ইলন মাস্ক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লাইসেন্স নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ভারত সরকারের এই সুরক্ষা নীতি প্রতিদ্বন্দ্বী রিলায়েন্স জিও ও এয়ারটেলকে সুবিধা দিচ্ছে। এর ফলে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এই টেলিযোগাযোগ বাজারে স্টারলিংকের বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):

  • ভারতে স্টারলিংক সেবা চালুর লাইসেন্স প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ায় সরাসরি ধনকুবের মুকেশ আম্বানি ও গৌতম আদানির দিকে আঙুল তুলেছেন টেসলার সিইও ইলন মাস্ক।
  • সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মাস্ক অভিযোগ করেন যে, ভারতের প্রতিযোগিতাবিরোধী টেলিকম নীতি ও একচেটিয়া বাজার নিয়ন্ত্রণ স্টারলিংকের মতো বৈশ্বিক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট প্রোভাইডারদের বাধাগ্রস্ত করছে।
  • ভারতের টেলিকম খাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান রিলায়েন্স জিও ইনফোকম ও ভারতী এয়ারটেল স্পেকট্রাম বরাদ্দের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক আনুকূল্য লাভ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

ভারতের স্যাটেলাইট ব্রডব্যান্ড বাজারে স্টারলিংকের লাইসেন্স প্রাপ্তি নিয়ে বৈশ্বিক প্রযুক্তি অঙ্গনে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক ভারতের একচেটিয়া করপোরেট সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সরাসরি মুখ খুলেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ভারতের শীর্ষ দুই শিল্পপতি মুকেশ আম্বানি ও গৌতম আদানির নাম উল্লেখ করে বলেন, তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষা করতেই টেলিকম খাতের নীতি প্রণয়ন করা হচ্ছে, যা অবাধ প্রতিযোগিতাকে রুদ্ধ করছে।

এর আগে ভারতের টেলিকম নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং স্পেকট্রাম নিলাম নীতি নিয়ে রিলায়েন্স জিও এবং ইলন মাস্কের স্টারলিংকের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মতপার্থক্য চলে আসছে। মুকেশ আম্বানির মালিকানাধীন রিলায়েন্স জিও চাচ্ছিল স্যাটেলাইট স্পেকট্রাম বরাদ্দের ক্ষেত্রে টেলিকম অপারেটরদের মতো নিলামের মাধ্যমে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে। পক্ষান্তরে, ইলন মাস্কের স্টারলিংক শুরু থেকেই দাবি করে আসছে যে, আন্তর্জাতিক প্রথা অনুযায়ী গ্লোবাল স্যাটেলাইট কমিউনিকেশনের ক্ষেত্রে স্পেকট্রাম প্রশাসনিকভাবে বরাদ্দ দেওয়া উচিত, কোনো নিলামের মাধ্যমে নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের এই নীতিগত লড়াই কেবল দুই ধনকুবেরের দ্বন্দ্ব নয়, বরং এটি ভারতের উদীয়মান ৫৬ বিলিয়ন ডলারের স্যাটেলাইট যোগাযোগ বাজারের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে যাবে, তার নির্ধারণী লড়াই। বিরোধী দলের নেতা রাহুল গান্ধীসহ দেশটির বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলও টেলিকম খাতের এই একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ও আম্বানি-আদানি তোষণের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। তারা মনে করছেন, এই সুরক্ষা নীতি শেষ পর্যন্ত সাধারণ গ্রাহকদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি করবে এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করবে।

স্টারলিংক যদি শেষ পর্যন্ত ভারতে তাদের কার্যক্রম শুরু করতে সফল হয়, তবে তা গ্রামীণ ও দুর্গম অঞ্চলে উচ্চগতির ইন্টারনেট সরবরাহের ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটাতে পারে। তবে বর্তমান রাজনৈতিক ও করপোরেট জটিলতার জাঁতাকলে পড়ে ইলন মাস্কের এই উচ্চাভিলাষী প্রজেক্ট কত দ্রুত আলোর মুখ দেখবে, তা নিয়ে এখন বড় ধরনের সংশয় তৈরি হয়েছে। ভারতীয় বাজারে এই নীতিগত বিরোধ বৈশ্বিক প্রযুক্তি বিনিয়োগকারীদের মাঝেও নেতিবাচক বার্তা পাঠাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।

সম্পাদকীয় নীতি ও তথ্য যাচাই

বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।

অফিসিয়াল অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন

সর্বশেষ খবর ও তাৎক্ষণিক ব্রেকিং পুশ নোটিফিকেশন

প্রতিদিনের নির্ভরযোগ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ সবার আগে পড়তে ইনস্টল করুন বাংলা নিউজ ২৪-এর অফিশিয়াল মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন। নির্ভুল খবর, তাৎক্ষণিক ব্রেকিং আপডেট ও সাবলীল পাঠ-অভিজ্ঞতা।

GET IT ON
Google Play
গুগল প্লে স্টোরে ক্লোজড বেটা ও আর্লি অ্যাক্সেস লাইভ