ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জে বিএসএফের ৭৪ নম্বর ব্যাটেলিয়নের কালীপুজোর অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে পূর্বতন সরকারের দুর্ব্যবহারের জন্য সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। রবিবার দীপাবলির এই অনুষ্ঠানে তিনি সীমান্তে শিক্ষিত যুবকদের কর্মসংস্থান এবং আগামী বছর থেকে রাজ্যে ‘সীমা মিত্র সম্মান’ চালুর ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জে বিএসএফের ৭৪ নম্বর ব্যাটেলিয়নের কালীপুজোর অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে পূর্বতন সরকারের আচরণের জন্য ক্ষমা চান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
- সীমান্তবর্তী এলাকার শিক্ষিত ও কাজ করতে আগ্রহী যুবকদের বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রকল্পের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
- আগামী বছর থেকে সীমান্ত সুরক্ষায় অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সীমা মিত্র সম্মান’ প্রবর্তন করা হবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
রবিবার দীপাবলির পবিত্র দিনে উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জে বিএসএফের ৭৪ নম্বর ব্যাটেলিয়নের কালীপুজোর অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনীর সঙ্গে পূর্বতন সরকারের দূরত্ব ও ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটাতে তিনি সরাসরি বিএসএফের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, অতীতে রাজ্যের শাসক দল বা সরকার বিএসএফের সঙ্গে যে অনুপযুক্ত আচরণ করেছিল, বর্তমান রাজ্য প্রশাসনের প্রধান হিসেবে তিনি তার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।
হিঙ্গলগঞ্জ কলেজ মাঠে হেলিকপ্টারে অবতরণের পর মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি বিএসএফ ক্যাম্পে প্রবেশ করেন। সেখানে ৭৪ নম্বর ব্যাটেলিয়নের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মিলিত হন তিনি। বৈঠকে সীমান্তবর্তী এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা, অনুপ্রবেশ রোধ এবং সীমান্ত সুরক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিএসএফের সঙ্গে এই বৈঠক শেষে বসিরহাট জেলা পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গেও তাঁর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠক করার কথা ছিল।
অনুষ্ঠানের ভাষণে মুখ্যমন্ত্রী শুধু ক্ষমাস্বার্থেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং সীমান্তবর্তী অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের রূপরেখাও তুলে ধরেন। তিনি ঘোষণা করেন যে, সীমান্ত এলাকার শিক্ষিত ও কর্মক্ষম যুবকদের জন্য বর্তমান ও আগত বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে বিশেষ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। এর পাশাপাশি, সীমান্ত সুরক্ষায় সাধারণ মানুষ ও জওয়ানদের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও দৃঢ় করতে আগামী বছর থেকে রাজ্যে ‘সীমা মিত্র সম্মান’ নামক বিশেষ সম্মাননা চালু করার কথা জানান তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর এই উদ্যোগ রাজ্য প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যকার দীর্ঘদিনের শীতল সম্পর্ক দূর করতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সীমান্ত অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর দূরত্ব কমিয়ে আস্থার পরিবেশ তৈরি করতে এই ঘোষণাগুলো সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।