আন্তর্জাতিক বাজারে অব্যাহত রয়েছে মূল্যবান ধাতু স্বর্ণের দরপতন। বৃহস্পতিবার স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ১.১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ২২.১৯ ডলারে। মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার অপরিবর্তিত রাখা এবং ডিসেম্বরে সুদের হার বাড়ানোর জোরালো সম্ভাবনার কারণে টানা দ্বিতীয় মাসের মতো কমার পথে রয়েছে এই বহুমূল্য ধাতুর বাজার।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- বৃহস্পতিবার স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২২ দশমিক ১৯ ডলারে নেমেছে এবং ডিসেম্বরের আগাম চুক্তি হয়েছে ৪ হাজার ৩৫ ডলারে।
- যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার অপরিবর্তিত রাখায় এবং শিকাগো মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জের ফেডওয়াচ টুল অনুযায়ী ডিসেম্বরে সুদ বাড়ার সম্ভাবনা ৮০ শতাংশ থাকায় স্বর্ণের বাজারে এই চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
- অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে রুপার দাম ২.৪ শতাংশ কমে ৫২.৬৭ ডলার, প্লাটিনামের দাম ২.৩ শতাংশ কমে ১,৫০২.৬১ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০.৮ শতাংশ কমে ১,০২.৫৫ ডলারে দাঁড়ায়।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
আন্তর্জাতিক bullion বাজারে স্বর্ণের দামে ফের পতন লক্ষ্য করা গেছে। বৃহস্পতিবার গ্রিনিচ মান সময় সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২২ দশমিক ১৯ ডলারে দাঁড়ায়। একই সঙ্গে ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের আগাম দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৫ ডলারে নেমে আসে। এর মধ্য দিয়ে টানা দ্বিতীয় মাসের মতো নিম্নমুখী প্রবণতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বিশ্ববাজারের স্বর্ণের খাত।
মূলত মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের মুদ্রানীতির দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবে এই দরপতন ঘটছে। বুধবার ফেডারেল রিজার্ভ প্রত্যাশা অনুযায়ী সুদের হার অপরিবর্তিত রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরবর্তী পরিস্থিতি এবং মূল্যস্ফীতির নতুন তথ্যের অপেক্ষায় থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকটি তাৎক্ষণিকভাবে ঋণের খরচে পরিবর্তন আনেনি। তবে বাজারের বিনিয়োগকারীরা ধারণা করছেন, ডিসেম্বরে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা এখনো প্রায় ৮০ শতাংশ জোরালো রয়েছে, যা ফেডওয়াচ টুলের তথ্যেও প্রতিফলিত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সুদের হার বাড়লে কোনো মুনাফা দেয় না এমন নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে স্বর্ণ ধরে রাখার সুযোগ ব্যয় বৃদ্ধি পায়। ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রতিষ্ঠান বাইবিটের প্রধান বাজার বিশ্লেষক হান তান জানিয়েছেন, মার্কিন ব্যক্তিগত ভোগ ব্যয়ের সূচক যদি প্রত্যাশা ছাড়িয়ে যায়, তবে স্বর্ণের দাম আবারও প্রতি আউন্স ৪ হাজার ডলারের নিচে নেমে যেতে পারে। এছাড়া জ্বালানি তেলের বাজার পরিস্থিতি এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার ওপরও স্বর্ণের ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি বহুলাংশে নির্ভর করছে।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও বড় ধরনের দরপতন রেকর্ড করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার স্পট মার্কেটে রুপার দাম ২ দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫২ দশমিক ৬৭ ডলারে ঠেকেছে। এছাড়া প্লাটিনামের দাম ২ দশমিক ৩ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ১ হাজার ৫০২ দশমিক ৬১ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ২ দশমিক ৫৫ ডলারে নেমে এসেছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।