দেশের বাজারে টানা দুই দিনে স্বর্ণের দাম ভরিপ্রতি ৩ হাজার ৮৪৯ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। সবশেষ স্থানীয় বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ৭০৭ টাকা। তেজাবী সোনার দাম বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এই নতুন দাম কার্যকর করেছে, যা দেশের ইতিহাসে অন্যতম সর্বোচ্চ রেকর্ড।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ৭০৭ টাকা।
- মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে বাজারে সোনার দাম مجموعیভাবে ৩ হাজার ৮৪৯ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে।
- স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার বা পাকা সোনার দাম বৃদ্ধির কারণে বাধ্য হয়ে অলংকার তৈরির এই নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
দেশের বাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে মূল্যবান ধাতু স্বর্ণের দাম। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে দফায় দফায় দাম বাড়িয়ে প্রতি ভরি সোনা ৩ হাজার ৮৪৯ টাকা বাড়ানো হয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) নির্ধারিত নতুন মূল্য অনুযায়ী, দেশের বাজারে এখন প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট সোনা কিনতে খরচ পড়বে ২ লাখ ২৪ হাজার ৭০৭ টাকা। এর আগে কিছুদিন দাম কিছুটা নিম্নমুখী থাকলেও সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক বাজার ও স্থানীয় বুলিয়ন মার্কেটের ওঠানামার প্রভাবে এই বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি ঘটে।
বাজুস সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার (পাকা সোনা) দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। এর আগে কয়েক দফায় সোনার দাম কিছুটা কমলেও বিশ্ববাজারে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং মুদ্রাস্ফীতির প্রভাবে আবারও দেশের বাজারে মূল্যবান এই ধাতুর দাম চড়তে শুরু করেছে। ২২ ক্যারেটের পাশাপাশি ২১ ক্যারেট এবং ১৮ ক্যারেট সোনার দামও আনুপাতিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য জুয়েলারি কেনাকাটা আরও ব্যয়বহুল করে তুলেছে।
স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিশ্ববাজারে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং মার্কিন ডলারের বিনিময় মূল্যের অস্থিতিশীলতার কারণে বুলিয়ন মার্কেটে প্রভাব পড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের এই চড়াই-উতরাইয়ের সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে। বিশেষ করে বিয়ের মৌসুম বা উৎসবের সময়ে সোনার এমন লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মধ্যবিত্ত ক্রেতারা বড় ধরনের আর্থিক চাপের মুখে পড়ছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সোনার দামের এই রেকর্ড বৃদ্ধি দেশের সামগ্রিক খুচরা গহনা বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিক্রয়কেন্দ্রে ক্রেতাদের উপস্থিতি কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত দেশের বাজারে সোনার দামের এই অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।