স্মার্টফোন ও বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারিতে আসছে যুগান্তকারী পরিবর্তন। লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির পরিবর্তে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার গবেষণাগারে সলিড-স্টেট ব্যাটারি নিয়ে কাজ চলছে, যা মাত্র ১০ মিনিটে পুরো চার্জ নিতে সক্ষম এবং একবার চার্জে গাড়ি চলতে পারবে ১ হাজার কিলোমিটার। টয়োটা ২০২৭ সালের মধ্যে এবং স্যামসাং দ্রুত চার্জিং প্রযুক্তির এই ব্যাটারি বাজারে আনার লক্ষ্য নিয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- টয়োটা ২০২৭ সালের মধ্যে সলিড-স্টেট ব্যাটারি বাজারে আনার পরিকল্পনা করছে, যা মাত্র ১০ মিনিটে পুরো চার্জ হয়ে একবার চার্জে প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার পথ চলতে পারবে।
- বর্তমান লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির শক্তি ধারণ ক্ষমতা ৩০০ ওয়াট-ঘণ্টা প্রতি কেজি হলেও, নতুন সলিড-স্টেট ব্যাটারিতে তা ৩৫০ থেকে ৫০০ ওয়াট-ঘণ্টা প্রতি কেজির কাছাকাছি নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
- স্যামসাং এমন একটি নতুন ব্যাটারি প্রদর্শন করেছে যা প্রায় ৯ মিনিটে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ গ্রহণ করতে সক্ষম এবং প্যানাসনিকের পরীক্ষামূলক ব্যাটারি ১০% থেকে ৮০% চার্জ হতে মাত্র তিন মিনিট সময় নেয়।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
স্মার্টফোন, ল্যাপটপ থেকে শুরু করে আধুনিক বৈদ্যুতিক গাড়ি—প্রতিটি প্রযুক্তির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ব্যাটারির মৌলিক প্রযুক্তিতে আসছে বড় ধরনের রূপান্তর। দীর্ঘদিনের পরিচিত লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে জাপানি, দক্ষিণ কোরিয়ান ও অস্ট্রেলীয় গবেষণাগারগুলোতে চলছে পরবর্তী প্রজন্মের ‘সলিড-স্টেট ব্যাটারি’ নিয়ে ব্যাপক গবেষণা। প্রচলিত ব্যাটারির ভেতরে থাকা দাহ্য তরল উপাদানের পরিবর্তে কঠিন সিরামিক, কাচ বা পলিমার ব্যবহারের মাধ্যমে শক্তি ধারণের ঘনত্ব বহুগুণ বাড়িয়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বর্তমান প্রযুক্তিতে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির এনার্জি ডেনসিটি বা শক্তি ধারণের হার প্রায় ৩০০ ওয়াট-ঘণ্টা প্রতি কেজি হলেও, পরীক্ষামূলক সলিড-স্টেট ব্যাটারিতে তা ৫০০ ওয়াট-ঘণ্টা প্রতি কেজির কাছাকাছি পৌঁছাতে দেখা গেছে। কঠিন পদার্থ ব্যবহারের ফলে একই ওজনের ব্যাটারিতে অনেক বেশি শক্তি সঞ্চয় করা সম্ভব হবে, যা বৈদ্যুতিক গাড়ির রেঞ্জ অ্যাংজাইটি বা চার্জ ফুরিয়ে যাওয়ার আতঙ্ক দূর করবে এবং মোবাইল ফোন বারবার চার্জে দেওয়ার ঝামেলা কমাবে।
শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো ইতোমধ্যে এই প্রযুক্তির বাণিজ্যিকীকরণের তারিখ ঘোষণা করেছে। টয়োটা জানিয়েছে তারা ২০২৭ সালের মধ্যে এমন ব্যাটারি বাজারে আনবে যা মাত্র ১০ মিনিটে সম্পূর্ণ চার্জ হতে পারে। অন্যদিকে স্যামসাং মাত্র ৯ মিনিটে ৮০ শতাংশ চার্জ নিতে সক্ষম ব্যাটারির কার্যকারিতা প্রদর্শন করেছে এবং প্যানাসনিক ১০% থেকে ৮০% চার্জ হতে মাত্র তিন মিনিট সময় নেয় এমন পরীক্ষামূলক ব্যাটারি তৈরি করেছে।
তবে এই প্রযুক্তির বড় আকারে প্রসারে কিছু কারিগরি চ্যালেঞ্জও রয়েছে। কঠিন পদার্থের পৃষ্ঠদেশ পুরোপুরি মসৃণ না হওয়ায় দুই স্তরের মাঝে অতি ক্ষুদ্র ফাঁক তৈরি হতে পারে, যা শক্তি চলাচল ব্যাহত করে। তা সত্ত্বেও গবেষকেরা সিলিকন অ্যানোড এবং কোয়ান্টাম পদার্থবিদ্যার নীতি প্রয়োগ করে আরও উন্নত ও নিরাপদ ব্যাটারি তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, যা আগামী দিনে আমাদের দৈনন্দিন প্রযুক্তি ব্যবহারের অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ বদলে দেবে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।