ভারতের বাজারে মাঝারি মাপের এসইউভি এমজি অ্যাস্টর-এর উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধের পথে হাঁটছে এমজি মোটর ইন্ডিয়া। ২০২১ সালে লঞ্চ হওয়া এই গাড়িটি হুন্দাই ক্রেটা ও কিয়া সেলটোসের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারেনি। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতি মাসে গড়ে মাত্র ১১২টি ইউনিট বিক্রি হওয়ায় এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- অটোকর প্রফেশনালের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারতীয় বাজারে প্রতি মাসে গড়ে মাত্র ১১২টি MG Astor বিক্রি হয়েছে।
- প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার অন্যতম প্রধান কারণ সীমিত ইঞ্জিনের বিকল্প; যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বীদের ডিজেল, সিএনজি বা হাইব্রিড অপশন ছিল, সেখানে অ্যাস্টরে শুধু পেট্রল ইঞ্জিন রাখা হয়েছিল।
- এমজি মোটর ইন্ডিয়া সম্পূর্ণভাবে মাঝারি মাপের এসইউভি বিভাগ ছাড়ছে না এবং ২০২৭ সালে SIGMA প্ল্যাটফর্মের অধীনে পেট্রল, হাইব্রিড ও বৈদ্যুতিক সংস্করণের নতুন মডেল বাজারে আনার পরিকল্পনা করছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ভারতের অটোমোবাইল বাজারে বিক্রি আশানুরূপ না হওয়ায় মাঝারি মাপের জনপ্রিয় এসইউভি 'এমজি অ্যাস্টর' (MG Astor)-এর উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এমজি মোটর ইন্ডিয়া। ২০২১ সালে বড় আশা নিয়ে ভারতীয় বাজারে পা রাখা এই গাড়িটি হুন্দাই ক্রেটা, কিয়া সেলটোস, ফোক্সওয়াগেন তাইगुन এবং স্কোডা কুশাকের মতো শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে ব্যর্থ হয়েছে। যদিও নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি এবং তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গাড়িটি তালিকাভুক্ত রয়েছে, তবুও বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় অটোমোবাইল মিডিয়ার প্রতিবেদনে এর উৎপাদন বন্ধের বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার পেছনে প্রধানত প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা ও ইঞ্জিনের সীমিত বিকল্প দায়ী বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বাজারে যখন প্রতিদ্বন্দ্বী ব্র্যান্ডগুলো পেট্রল, ডিজেল, সিএনজি এবং হাইব্রিড ইঞ্জিনের বহুমুখী বিকল্প অফার করছিল, তখন এমজি অ্যাস্টর কেবল পেট্রল ইঞ্জিনের ওপর নির্ভর করে ছিল। প্রথমে গাড়িটিতে ১.৫ লিটারের ন্যাচারালি অ্যাসপিরেটেড পেট্রল ইঞ্জিন এবং ১.৪ লিটারের টার্বো পেট্রল ইঞ্জিন—এই দুই বিকল্প থাকলেও, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে টার্বো ইঞ্জিনটির বিক্রি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলস্বরূপ, গ্রাহকদের কাছে কেবল ১.৫ লিটারের ইঞ্জিন এবং ৫ গতির ম্যানুয়াল বা সিভিটি গিয়ারবক্সের সীমিত অপশনই অবশিষ্ট থাকে।
অটোকর প্রফেশনালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘ এক বছরে গাড়িটির মাসিক গড় বিক্রি নেমে এসেছে মাত্র ১১২টিতে। দেশের অত্যন্ত প্রতিযোগিতাপূর্ণ মাঝারি এসইউভি সেগমেন্টে এই স্বল্প পরিমাণ বিক্রি কোম্পানির ব্যবসায়িক কৌশলে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে। কেবিনের আধুনিক প্রিমিয়াম ফিচার এবং আকর্ষণীয় ডিজাইন থাকা সত্ত্বেও ইঞ্জিন বৈচিত্র্যের অভাব গ্রাহকদের মন জয় করতে পারেনি, যা শেষ পর্যন্ত গাড়িটির বাণিজ্যিক যাত্রাকে থমকে দিয়েছে।
তবে এমজি মোটর ইন্ডিয়া মাঝারি মাপের এসইউভি বাজার পুরোপুরি ছেড়ে দিচ্ছে না। ইন্ডাস্ট্রি সূত্রে খবর, অ্যাস্টরের স্থান পূরণে একটি সম্পূর্ণ নতুন মডেল নিয়ে আসার প্রস্তুতি চলছে, যা বাজারে আত্মপ্রকাশ করতে পারে ২০২৭ সালে। নতুন এই মডেলটি সংস্থার আধুনিক 'সিগমা' (SIGMA) প্ল্যাটফর্মে তৈরি হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে পেট্রল, হাইব্রিড এবং সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক—এই তিনটি ভিন্ন পাওয়ারট্রেন অপশনই যুক্ত করার সুযোগ থাকবে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতের বাজারের চাহিদা মেটাতে নতুন রণকৌশল সাজাচ্ছে এমজি।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।