গাজীপুরের টঙ্গীতে প্রথম শ্রেণির মাদরাসাছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে গ্রেপ্তার ভাইস প্রিন্সিপালের জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। গত ১৯ অক্টোবর মাদরাসার নিচতলায় এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। বৃহস্পতিবার ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ভুক্তভোগী শিশুর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- টঙ্গীর একটি মাদরাসায় গত ১৯ অক্টোবর প্রথম শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে গ্রেপ্তার হন ওই মাদরাসার ভাইস প্রিন্সিপাল।
- বৃহস্পতিবার গাজীপুর মহানগর হাকিম আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ভুক্তভোগী শিশুটির জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
- মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ও ভুক্তভোগী পরিবারের মধ্যে পাল্টাপাল্টি মামলা হয়েছে, যেখানে ১৭ লাখ টাকা ও মুঠোফোন লুটের অভিযোগ এনেছেন অধ্যক্ষ আলমাছ হোসেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
গাজীপুরের টঙ্গীতে প্রথম শ্রেণির এক মাদরাসাছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে অভিযুক্ত মাদরাসার ভাইস প্রিন্সিপালের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। গত ১৯ অক্টোবর টঙ্গীর ওই মাদরাসার নিচতলার সিঁড়িতে এই জঘন্য অপরাধ সংঘটিত হয় বলে অভিযোগ করে ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার। ঘটনার পর থেকে শিশুটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে এবং মাদরাসায় যেতে অস্বীকৃতি জানায়। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যদের নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে শিশুটি পুরো ঘটনা খুলে বলে।
ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর গত ২১ অক্টোবর দুপুরে শিশুটির স্বজনেরা মাদরাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় স্থানীয় জনতা ক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষককে মারধর করে। খবর পেয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ ও বিভিন্ন ডিজিটাল আলামত সংগ্রহ করেছে।
টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, সংগৃহীত আলামত ও প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা মিলেছে। এদিকে বৃহস্পতিবার গাজীপুর মহানগর হাকিম আদালতের বিচারকের খাসকামরায় শিশুটির জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। আদালতের পরিদর্শক আহসানুল্লাহ চৌধুরী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ঘটনার পরদিন থেকেই বিষয়টি নিয়ে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
অন্যদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভুক্তভোগী পরিবার ও মাদরাসা কর্তৃপক্ষের মধ্যে তীব্র বিরোধ দেখা দিয়েছে। মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ আলমাছ হোসেন দাবি করেছেন, শিশুটির বাবার নেতৃত্বে ১৫-১৬ জনের একটি দল মাদরাসায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে এবং ১৭ লাখ টাকা ও পাঁচটি মুঠোফোন লুট করে নিয়ে যায়। তবে ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে একমাত্র মেয়ের ওপর নির্যাতনকারীর কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ উভয় পক্ষের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।