নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে পূর্বানুমতি ছাড়া প্রবেশ এবং শান্তি রক্ষা মুচলেকা লঙ্ঘনের অভিযোগে 'ককরোচ জনতা পার্টি' বা সিজেপি-র নেতা সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কাসহ ১১ জন সদস্যের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে দিল্লি পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ চলাকালীন তাদের আটক করে জাফরপুর কালান থানায় নেওয়া হয়।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রবেশের অভিযোগে সিজেপি-র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাসহ প্রায় ১১ জন সদস্যকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ।
- আটককৃতদের বিরুদ্ধে পূর্বে স্বাক্ষরিত 'শান্তি রক্ষা মুচলেকা' লঙ্ঘনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে দ্বারকা জেলার জাফরপুর কালান থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
- দিল্লি পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমারের সাম্প্রতিক নির্দেশ অনুযায়ী যন্তর মন্তর রোডকে বিক্ষোভ প্রদর্শনের নির্ধারিত স্থান থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং রামলীলা ময়দান, বুরারি গ্রাউন্ড ও সিবিডি গ্রাউন্ডকে নতুন বিক্ষোভস্থল হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তর এলাকায় পূর্বানুমতি ছাড়া প্রবেশ এবং নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার অভিযোগে 'ককরোচ জনতা পার্টি' (সিজেপি)-র শীর্ষস্থানীয় নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাসহ প্রায় ১১ জন সদস্যের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে দিল্লি পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে পুলিশি ব্যারিকেড ভেঙে বিক্ষোভস্থলে প্রবেশ করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে তীব্র স্লোগান দেওয়ার পরই তাদের আটক করা হয়। পরে আটককৃতদের দ্বারকা জেলার জাফরপুর কালান থানায় স্থানান্তর করা হয় এবং থানা চত্বরে বাড়তি নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে আনা প্রধান অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে পূর্বে দেওয়া 'শান্তি রক্ষা মুচলেকা' বা বন্ডের শর্ত লঙ্ঘন। এর আগে শনিবার দিল্লিতে পৌঁছানোর পর দীপকে, আশুতোষ ও সৌরভকে আটক করা হলেও এক বছর শান্তি বজায় রাখার শর্তে একদিন পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই শর্ত ভেঙে পুনরায় বিক্ষোভ প্রদর্শনের চেষ্টা করায় পুলিশ এবার কঠোর অবস্থানে গেছে। সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা দীপকে এই অভিযানকে 'যন্তর মন্তর পুনরুদ্ধারের আন্দোলন' হিসেবে অভিহিত করে জানিয়েছেন যে, পুলিশের বাধা সত্ত্বেও তাদের আন্দোলন চলবে।
উল্লেখ্য, দিল্লি পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমার সম্প্রতি এক নির্দেশিকা জারি করে যন্তর মন্তর রোডকে বিক্ষোভ প্রদর্শনের নির্ধারিত স্থান হিসেবে তালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন। বড় ধরনের জমায়েত বা বিক্ষোভের জন্য বর্তমানে মধ্য দিল্লির রামলীলা ময়দান, উত্তর দিল্লির বুরারি গ্রাউন্ড এবং পূর্ব দিল্লির সিবিডি গ্রাউন্ড—এই তিনটি স্থানকে নির্দিষ্ট করা হয়েছে। ফলে যন্তর মন্তরে যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি বা বিক্ষোভ আইনগতভাবে নিষিদ্ধ।
সিজেপি নেতাদের এই আটকের ঘটনা রাজধানীতে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সংগঠনের নেতারা। অন্যদিকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আইন নিজের হাতে তুলে নিলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।