দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সব হাসপাতালে শয্যা বাড়ানোর জরুরি নির্দেশ দিয়েছে। চলতি বছরের ৬ অক্টোবর পর্যন্ত ৯০ হাজার ৩৫৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং ২৮১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ১২৭ জন মারা গেছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ চত্বরের ফিল্ড হাসপাতাল চালুর চিন্তা চলছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- চলতি বছরের ৬ অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সারাদেশে মোট ৯০ হাজার ৩৫৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং মারা গেছেন ২৮১ জন।
- মৃত ২৮১ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ১২৭ জন, খুলনা বিভাগে ৫৫ জন এবং চট্টগ্রাম বিভাগে ২৫ জন মারা গেছেন।
- পরিস্থিতি সামাল দিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ চত্বরের ফিল্ড হাসপাতাল চালুর বিশেষ বিবেচনা করা হচ্ছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ডেঙ্গুর সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি সামাল দিতে সব হাসপাতালকে শয্যা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। গত রবিবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় রাজধানী ঢাকার হাসপাতালগুলোকে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি রোগীদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়।
অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৬ অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯০ হাজার ৩৫৬ জন এবং প্রাণ হারিয়েছেন ২৮১ জন। মৃতদের মধ্যে পুরুষ ১৩২ জন এবং নারী ১৪৫ জন। বিভাগওয়ারী পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চলতি বছরে এ পর্যন্ত ঢাকা বিভাগেই সবচেয়ে বেশি ১২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া খুলনা বিভাগে ৫৫ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৫ জন, বরিশাল বিভাগে ২৪ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২৩ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৯ জন, রংপুর বিভাগে ৬ জন এবং সিলেট বিভাগে ২ জন মারা গেছেন।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সুনির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন অধিদপ্তরের হাসপাতাল শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. নুরুল ইসলাম। তিনি জানান, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে স্থাপিত ফিল্ড হাসপাতালটি চালুর বিষয়টি বিশেষ বিবেচনায় রয়েছে। এছাড়া ডেঙ্গু রোগীদের স্থান সংকুলান করতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে কিছু রোগীকে জাতীয় বার্ন ইউনিটে স্থানান্তরের পরিকল্পনা করা হয়েছে। মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ডেঙ্গুর শয্যা সংখ্যা আরও বাড়াতে বলা হয়েছে এবং কুর্মিটোলা মাল্টিডিসিপ্লিনারি হাসপাতালকে ঢাকার বাইরের রোগীদের চিকিৎসায় প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সময়োপযোগী এই নির্দেশনাগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে রোগীর চাপ সামলানো সহজ হবে এবং ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা ভোগান্তি অনেকাংশে হ্রাস পাবে। সরকারি হাসপাতালগুলো সাধারণত রোগী ফিরিয়ে না দিলেও শয্যা সক্ষমতা ছাড়িয়ে যাওয়ায় রোগীর সংখ্যা বাড়লে যে সংকট তৈরি হয়, তা নিরসনে ঢাকার পাশাপাশি বাইরের হাসপাতালগুলোকেও সমানভাবে প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।