আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারে মার্কিন ডলারের বড় দরপতন ঘটেছে। ২ নভেম্বর ডলার ইনডেক্স ১০১.৫ পয়েন্টে নেমে আসায় ইউরো, ব্রিটিশ পাউন্ড ও জাপানি ইয়েনের মান বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা ডলার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। ফলে বিশ্ববাজারে প্রধান মুদ্রাসমূহের বিপরীতে ডলারের বিনিময় হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ডলার ইনডেক্স (DXY) সংকুচিত হয়ে ১০১.৫ পয়েন্টের কাছাকাছি অবস্থান করছে, যা প্রধান ছয়টি শক্তিশালী মুদ্রার বিপরীতে ডলারের মান হ্রাসের স্পষ্ট ইঙ্গিত।
- জাপানি ইয়েন এবং ইউরোর বিপরীতে ডলারের মান কমেছে; বিশেষ করে ব্যাংক অফ জাপানের মুদ্রানীতি এবং মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার সংক্রান্ত দোদুল্যমান সিদ্ধান্তের প্রভাবে এই পরিবর্তন।
- ২ নভেম্বর পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, মার্কিন রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং দীর্ঘমেয়াদী মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে ডলারের চাহিদা হ্রাস পাওয়ায় পাউন্ড ও ইউরো শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারে মার্কিন ডলারের আধিপত্যে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। ২ নভেম্বর বিশ্ববাজারে ডলার ইনডেক্স ১০১.৫ পয়েন্টে নেমে আসায় প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মুদ্রা ইউরো, ব্রিটিশ পাউন্ড এবং জাপানি ইয়েনের দর বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আসন্ন নির্বাচনের অনিশ্চয়তার প্রভাবে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে অন্যান্য মুদ্রার দিকে ঝুঁকছেন, যার ফলে ডলারের এই ব্যাপক দরপতন পরিলক্ষিত হচ্ছে। মূলত বৈশ্বিক মুদ্রাবাজারে ডলারের একচেটিয়া আধিপত্য কিছুটা শিথিল হওয়ার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মুদ্রাস্ফীতির হার প্রত্যাশিত মাত্রায় না কমায় ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, জাপানি ইয়েন শক্তিশালী হওয়ার পেছনে ব্যাংক অফ জাপানের কঠোর মুদ্রানীতির প্রভাব রয়েছে। ইউরো এবং পাউন্ডের বিনিময় হারও ডলারের বিপরীতে ঊর্ধ্বমুখী, যা বৈশ্বিক আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকদের জন্য নতুন সমীকরণ তৈরি করছে। বিশেষ করে ইউরোপীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ডলারের বিপরীতে ইউরোকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করেছে।
আর্থিক বিশ্লেষকদের মতে, ডলারের এই নিম্নমুখী প্রবণতা সাময়িক হতে পারে যদি মার্কিন শ্রমবাজারের তথ্য আগামীতে ইতিবাচক আসে। তবে বর্তমানে ১০১.৫ এর ঘরে অবস্থান করা ডলার ইনডেক্স নির্দেশ করছে যে, বিশ্ববাজারে ডলারের একচেটিয়া প্রভাব কিছুটা প্রশমিত হচ্ছে। বিশেষ করে ভিয়েতনাম ও এশিয়ার অন্যান্য উদীয়মান বাজারে ডলারের বিনিময় হারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, যা স্থানীয় মুদ্রার মান নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
ডলারের এই দরপতন বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য বৈদেশিক মুদ্রা পরিশোধে কিছুটা স্বস্তির বার্তা দিলেও আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল ও স্বর্ণের দামে এর প্রভাব পড়বে। মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো এখন ডলারের গতিবিধির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছে। আগামী সপ্তাহগুলোতে মার্কিন রাজনৈতিক পরিস্থিতির স্থিতিশীলতা এবং ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার সংক্রান্ত ঘোষণার ওপরই নির্ভর করবে ডলার পুনরায় ঘুরে দাঁড়াবে কি না।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।