চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে বিশ্ববাজারে সোনার মোট চাহিদা অতীতের রেকর্ড স্পর্শ করেছে। জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে মূল্যবান এই ধাতুর সামগ্রিক বাজারমূল্য ৫৬৬ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ওটিসি লেনদেনসহ মোট চাহিদা ৩ হাজার ৮৮১ টনে পৌঁছেছে। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর অব্যাহত সোনা কেনার কারণে এই প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে বৈশ্বিক বাজারে সোনার মোট চাহিদা ওটিসি লেনদেনসহ ৩ হাজার ৮৮১ টনে পৌঁছেছে, যার বাজারমূল্য সর্বকালের সর্বোচ্চ ৫৬৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
- উচ্চ মূল্যের মধ্যেও তৃতীয় প্রান্তিকে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো মোট ৩২১ টন সোনা সংগ্রহ করেছে, ফলে এ বছর কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মোট কেনাকাটা ৬ শতাংশ বেড়ে ৬৭৫ টনে দাঁড়িয়েছে।
- চড়া দামের কারণে বিশ্বজুড়ে অলংকার তৈরির বাজারে বড় মন্দা দেখা দিয়েছে এবং তৃতীয় প্রান্তিকে অলংকার কেনাকাটা ১৭ শতাংশ কমে ৩১৩ টনে নেমেছে, যা ঐতিহাসিক তথ্যের বিচারে সর্বনিম্ন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে বিশ্ববাজারে সোনার মোট চাহিদা অতীতের সব রেকর্ড স্পর্শ করার কাছাকাছি পৌঁছেছে। জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে মূল্যবান এই ধাতুর সামগ্রিক বাজারমূল্য সর্বকালের সর্বোচ্চ ৫৬৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ওভার-দ্য-কাউন্টার (ওটিসি) লেনদেনসহ প্রথম নয় মাসব্যাপী সোনার মোট চাহিদা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৮৮১ টনে। তবে ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে এসে ওটিসিসহ সোনার বৈশ্বিক চাহিদা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ শতাংশ কমে ১ হাজার ৩৬৯ টনে নেমেছে।
উচ্চ মূল্যের মধ্যেও তৃতীয় প্রান্তিকে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সোনা কেনার প্রবণতা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। এই তিন মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো মোট ৩২১ টন সোনা সংগ্রহ করেছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের প্রান্তিক গড়কে ছাড়িয়ে গেছে। ফলে বছরটিতে এ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর কেনাকাটা বার্ষিক ভিত্তিতে ৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৭৫ টনে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব নিয়ে বাড়তে থাকা উদ্বেগ ও দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতির কারণে সোনার বাজারে বড় প্রভাব পড়েছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকের তহবিল প্রত্যাহারের ধাক্কা কাটিয়ে তৃতীয় প্রান্তিকে বৈশ্বিক গোল্ড এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ডগুলোতে (ইটিএফ) ২১১ টন সোনা যুক্ত হয়েছে।
তবে ভবিষ্যৎ দামের গতিপ্রকৃতি স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষায় সাধারণ বিনিয়োগকারীরা কেনাকাটা স্থগিত রেখেছেন। ফলে সোনার বার ও কয়েন কেনার হার আগের বছরের তুলনায় ১৯ শতাংশ কমে ২৬৮ টনে নেমেছে। চড়া দামের প্রভাবে অলংকার তৈরির বাজারে বড় ধরনের মন্দা দেখা দিয়েছে। তৃতীয় প্রান্তিকে অলংকার কেনাকাটা বার্ষিক ১৭ শতাংশ কমে ৩১৩ টনে দাঁড়িয়েছে, যা ঐতিহাসিক তথ্যের বিচারে যেকোনো তৃতীয় প্রান্তিকের জন্য সর্বনিম্ন। চাহিদার পরিমাণ কমলেও চড়া দামের কারণে এ খাতে মোট ব্যয়ের পরিমাণ ২ শতাংশ বেড়ে ৪৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। প্রধান বাজারগুলোতে অলংকারের বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে; যেমন ভারতে সোনার অলংকার ব্যবহার ২০ শতাংশ কমে ১০০ টনে এবং যুক্তরাষ্ট্রে ১৮ শতাংশ কমে ২১ টনে নেমেছে।
উচ্চমূল্যের বাধা সত্ত্বেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই যন্ত্রাংশ উৎপাদন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় এই খাতে সোনার ব্যবহার ৩ শতাংশ বেড়েছে। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী দিনে সোনার সামগ্রিক বাজার সম্প্রসারণে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহই প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সোনা সংগ্রহের ধারা অব্যাহত থাকবে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।