মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন, রবিবারই হামলা হতে পারে। ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি তেহরানের সঙ্গে বড় চুক্তির সম্ভাবনা উড়িয়ে না দিলেও চুক্তির শর্ত মানা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া আমেরিকা-ইজরায়েল যৌথ হামলা এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধের প্রেক্ষাপটে এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে চরম উত্তেজনা ও তেলের বাজার নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্লোরিডায় মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট দেওয়ার পর সাংবাদিকদের জানান, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযান রবিবারের মধ্যেই হতে পারে।
- তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাক এক পডকাস্টে নিশ্চিত করেছেন যে সপ্তাহান্তে ইরানে হামলা হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে, যা ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে জল্পনা বাড়িয়েছে।
- গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইসহ শীর্ষ সামরিক আধিকারিকরা নিহত হওয়ার পর থেকে দুই দেশের মধ্যে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক এক মন্তব্যে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে মার্কিন সামরিক অভিযানের তীব্র আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শনিবার ফ্লোরিডায় মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট দেওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে ফের সামরিক হামলা চালানো হতে পারে এবং তা চলতি সপ্তাহেই, এমনকি রবিবারই হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি তেহরানের সঙ্গে বড়সড় কোনো চুক্তির মাধ্যমে সংঘাত অবসানের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি। তবে চুক্তির শর্ত তেহরান শেষ পর্যন্ত মেনে চলবে কি না, তা নিয়ে নিজের সংশয়ের কথাও স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেন তিনি।
গত শুক্রবারও ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনার কথা বলেছিলেন ট্রাম্প। 'এপিক ফিউরি' নামে পরিচিত মার্কিন সামরিক অভিযানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, পরমাণু অস্ত্র তৈরি থেকে ইরানকে আটকাতেই এই পদক্ষেপ বিবেচনা করা হচ্ছে। এদিকে, তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাকও সম্প্রতি একটি পডকাস্টে জানিয়েছেন যে সপ্তাহান্তে ইরানে হামলা হতে পারে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যমে বর্তমান সংঘাতের সূত্রপাত হয়। ওই হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই এবং বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক আধিকারিক নিহত হন। এর জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলিতে হামলা চালায় এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ১৭ জুন ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে যুদ্ধের অবসানে ১৪ দফার একটি সমঝোতা চুক্তির কথা শোনা গেলেও ৮ জুলাই ট্রাম্প সেই চুক্তিকে 'শেষ' বলে ঘোষণা করেন। এর এক সপ্তাহ পর ইরানও সমঝোতা স্থগিত করে আমেরিকার বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের গুরুতর অভিযোগ তোলে। এদিকে, ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ইরানের বর্তমান ধর্মীয় শাসনব্যবস্থা উৎখাতের বিষয়ে বহুবার কড়া অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। ফলে ট্রাম্পের এই খামখেয়ালি ও হুঙ্কারমূলক বক্তব্যে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে চরম অনিশ্চয়তা ও যুদ্ধের মেঘ ঘনীভূত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন করে কোনো মার্কিন সামরিক আগ্রাসন চালানো হলে তা কেবল মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিকেই অস্থিতিশীল করবে না, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি তেলের সরবরাহের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। হরমুজ প্রণালী আবারও দীর্ঘসময় বন্ধ থাকলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্য আকাশচুম্বী হতে পারে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের ধাক্কা হানবে। হোয়াইট হাউসের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।