মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, আগামী রোববারের মধ্যে ইরানের সঙ্গে পরমাণু ও ভূরাজনৈতিক ইস্যুতে সমঝোতা না হলে দেশটিতে সামরিক হামলা চালানো হবে। আরব সাগরে যুদ্ধজাহাজ ও বাংকারবিধ্বংসী বোমা মোতায়েনের পর এই চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, আইআরজিসি এটিকে মনস্তাত্ত্বিক চাপ ও গণমাধ্যমকেন্দ্রিক প্রচারণা বলে উড়িয়ে দিয়েছে। উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে মধ্যপ্রাচ্যে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ডোনাল্ড ট্রাম্প আসন্ন রোববারের মধ্যে ইরানের সঙ্গে একটি পূর্ণাঙ্গ সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের আল্টিমেটাম দিয়েছেন, অন্যথায় বড় ধরনের হামলার হুমকি দিয়েছেন।
- যুক্তরাষ্ট্র আরব সাগরে ভারী যুদ্ধজাহাজ ও বাংকারবিধ্বংসী বোমা মোতায়েন করেছে, যা ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে ইরানি স্থাপনায় পূর্ণমাত্রার হামলার প্রস্তুতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
- ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, ট্রাম্পের এই হুমকি মূলত অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে নিজেদের প্রচারণার কৌশল মাত্র।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য ও মধ্যপ্রাচ্য নীতিকে কেন্দ্র করে মার্কিন-ইরান সম্পর্কে নতুন করে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন যে, আগামী রোববারের মধ্যেই ইরানের সঙ্গে একটি নতুন ও চমৎকার সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে, নতুবা মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটির ওপর কঠোর সামরিক হামলা চালানো হতে পারে। তার এই বক্তব্যের পর আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে। এর অংশ হিসেবে আরব সাগরে বাংকারবিধ্বংসী বোমা ও অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে। গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, ইরানের পরমাণু এবং ভূগর্ভস্থ সামরিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস করার জন্য ওয়াশিংটন ও তেল আবিব পূর্ণমাত্রার হামলার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে।
তবে মার্কিন এই সামরিক হুমকি এবং ট্রাম্পের আল্টিমেটামকে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছে না তেহরান। ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছে, ট্রাম্পের এ ধরনের বক্তব্য মূলত মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ এবং বিশ্ব গণমাধ্যমে প্রচার পাওয়ার একটি অপকৌশল মাত্র। ইরানি নেতারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত মার্কিন প্রশাসন তেহরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে হত্যার হুমকি বন্ধ না করবে, ততক্ষণ কোনো ধরনের অর্থবহ আলোচনা শুরু করা সম্ভব নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই দ্বিমুখী নীতি মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। হরমুজ প্রণালীতে সম্ভাব্য সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণে বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে বিশ্বশক্তিগুলো এখন চরম সামরিক সংঘাত এড়াতে কূটনৈতিক উপায়ে সংকট সমাধানের ওপর জোর দিচ্ছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।