রাজনৈতিক পালাবদলের পর রাজ্যের প্রথম দুর্গাপূজায় কলকাতার ঐতিহ্যবাহী হিন্দুস্তান ক্লাবের ৬৪তম বর্ষে এসেছে বড় পরিবর্তন। একসময়ের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের এই পুজোয় এবার উদ্বোধক হিসেবে থাকছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আধুনিকতার ভিড় এড়িয়ে মণ্ডপসজ্জায় এবার ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে সাবেকি জমিদারবাড়ির দুর্র্গাদালানের আবহ, যা সম্পূর্ণভাবে নারী পরিচালিত একটি উদ্যোগ।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- কলকাতার ঐতিহ্যবাহী হিন্দুস্তান ক্লাব এ বছর ৬৪ বছরে পদার্পণ করেছে, যার এবারের মূল থিম হিসেবে থাকছে সাবেকি জমিদারবাড়ির দুর্র্গাদালান।
- রাজনৈতিক পালাবদলের ফলে এই পুজোর উদ্বোধনে বড় পরিবর্তন এসেছে, যেখানে অতীতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবর্তে এবার উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
- নিউটাউন সর্বজনীন, সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার এবং শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবসহ কলকাতার প্রধান পুজো মণ্ডপগুলো উদ্বোধনে অংশ নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদার ও দিলীপ ঘোষের মতো শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলায় এবার উদযাপিত হচ্ছে প্রথম দুর্গাপূজা। আর এই পালাবদলের ছোঁয়া স্পষ্টভাবেই লেগেছে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী পুজো মানচিত্রে। শহর কলকাতার অন্যতম পরিচিত পুজো হিসেবে খ্যাত হিন্দুস্তান ক্লাবের দুর্গাপূজা এবার পা রাখল তাদের ৬৪তম বর্ষে। অতীতে এই পুজোর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিলেন তৃণমূল জমানার তৎকালীন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং প্রতি বছর এর উদ্বোধনে সশরীরে উপস্থিত হতেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলের সঙ্গে সঙ্গে আয়োজকদের নেতৃত্বে এবং উদ্বোধক তালিকায় এসেছে বড় পরিবর্তন। এ বছরের পুজোয় উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর।
রাজনৈতিক পরিবর্তনের হাওয়া লাগলেও মণ্ডপসজ্জা ও থিম ভাবনায় এবার এক নস্টালজিক আমেজ ফিরিয়ে আনছেন আয়োজকরা। আধুনিকতার কৃত্রিম ভিড় এড়িয়ে হিন্দুস্তান ক্লাবের এবারের মূল আকর্ষণ সাবেকিয়ানার জয়গান। পুরনো দিনের বনেদি বাড়ি কিংবা সাবেক জমিদারবাড়ির দুর্র্গাদালানের আদলে গড়া হচ্ছে মণ্ডপ, যেখানে ফুটে উঠবে বাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্য, কৃষ্টি ও শিকড়ের সংস্কৃতি। বিশেষ এই পুজোটির আরেকটি বড় দিক হলো এর সম্পূর্ণ ব্যবস্থাপনা পরিচালিত হচ্ছে নারীদের দ্বারা, যা নারী ক্ষমতায়নের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
এদিকে, মহালয়া ও পিতৃপক্ষের সূচনা থেকেই কলকাতার বড় বড় পুজোগুলোয় শুরু হয়ে গেছে উদ্বোধনের ধুম। রবিবার লেকটাউনের নামী পুজো শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবের উদ্বোধনে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীরা কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন পূর্ববর্তী সরকারকে। তিনি মন্তব্য করেন যে, যারা অতীতে পিতৃপক্ষের সময় পুজোর উদ্বোধন করতেন, বাংলার মানুষ তাদের ইতিহাস বানিয়ে দিয়েছে। এছাড়াও নিউটাউন সর্বজনীন ও সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের পুজোতেও কেন্দ্রীয় ও রাজ্য স্তরের বিজেপি নেতৃবৃন্দ যেমন সুকান্ত মজুমদার, দিলীপ ঘোষ এবং শমীক ভট্টাচার্যরা উপস্থিত থেকে পুজোর ফিতে কাটছেন।
রাজ্যের এই নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের উচ্ছ্বাস এবং রাজনৈতিক দলগুলোর তৎপরতা তুঙ্গে পৌঁছেছে। পালাবদলের এই আবহে সাবেকি থিম ও ঐতিহ্যবাহী মণ্ডপগুলো দর্শনার্থীদের মনে ভিন্ন এক আকর্ষণের জন্ম দিয়েছে। বঙ্গে রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের ছাপ এখন কলকাতার সর্বজনীন উৎসবের মঞ্চেও দৃশ্যমান, যা আগামী দিনে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিশ্লেষকরা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।