দেশের ১৩টি সিটি কর্পোরেশনে ব্যাটারিচালিত ই-রিকশা নিবন্ধনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যান্ত্রিক ত্রুটিমুক্ত যান চলাচলের লক্ষ্যে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কারিগরি ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নির্দিষ্ট ফি জমা দিয়ে মালিকরা এই নিবন্ধন সম্পন্ন করতে পারবেন, যার মূল লক্ষ্য হলো অনিবন্ধিত ও ঝুঁকিপূর্ণ যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) ও উত্তর সিটি কর্পোরেশনসহ দেশের মোট ১৩টি সিটি কর্পোরেশনে একযোগে ই-রিকশা নিবন্ধন ও লাইসেন্স প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
- প্রতিটি ই-রিকশার বডি স্ট্রাকচার, ব্রেকিং সিস্টেম এবং ব্যাটারি সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য বুয়েটের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে কারিগরি ছাড়পত্র গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
- নিবন্ধিত প্রতিটি যানে কিউআর কোড সম্বলিত ডিজিটাল নম্বর প্লেট স্থাপন করা হবে, যা ট্রাফিক পুলিশ কর্তৃক যানের বৈধতা ও মালিকানা যাচাইয়ে ব্যবহৃত হবে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ১৩টি সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশা বা ই-রিকশাকে শৃঙ্খলার আওতায় আনতে আনুষ্ঠানিক নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এখন থেকে যেকোনো ই-রিকশা নিবন্ধনের জন্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বিশেষজ্ঞ দলের কারিগরি ছাড়পত্র বা ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস এবং যান্ত্রিকভাবে ত্রুটিমুক্ত যান চলাচল নিশ্চিত করতেই সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনায় এই কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) আগামীকাল থেকে এই নিবন্ধন কার্যক্রমের বিশেষ বুথ পরিচালনা করবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ই-রিকশার নকশা, গতি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং ব্যাটারির স্থায়িত্ব পরীক্ষা করবে বুয়েটের কারিগরি দল। শুধুমাত্র বুয়েট কর্তৃক অনুমোদিত মডেলের রিকশাগুলোই নিবন্ধনের যোগ্য বলে বিবেচিত হবে। এর ফলে স্থানীয় গ্যারেজে তৈরি হওয়া অনিরাপদ ও ভারসাম্যহীন যান চলাচল বন্ধ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সিটি কর্পোরেশন সূত্র মতে, নিবন্ধনের জন্য মালিকদের নির্ধারিত ফি ব্যাংকের মাধ্যমে জমা দিতে হবে। প্রতিটি নিবন্ধিত যানে একটি করে কিউআর কোড সম্বলিত ডিজিটাল নম্বর প্লেট স্থাপন করা হবে। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুপযুক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ যান কমিয়ে আনার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছিলেন। এই প্রক্রিয়ায় নিবন্ধিত চালকদের জন্য বিশেষ ডাটাবেজও তৈরি করা হচ্ছে।
এই উদ্যোগের ফলে শহরের গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরবে এবং চালকদের বৈধ আয়ের পথ সুগম হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে বুয়েটের ছাড়পত্র পাওয়ার প্রক্রিয়াটি যেন সহজ ও হয়রানিমুক্ত হয়, সেদিকে নজর দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন রিকশা মালিক ও চালক সংগঠনগুলো। দীর্ঘমেয়াদে এই ডিজিটাল নিবন্ধন ব্যবস্থা যানজট নিরসন এবং পরিবেশবান্ধব যাতায়াত নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।