কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে বিপুল বিনিয়োগ ও ডেটা সেন্টার নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারে নতুন করে আর্থিক সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ওয়াল স্ট্রিটের নাসডাক সূচক প্রায় ৫.৫ শতাংশ কমে যাওয়ায় গত এক মাসে বাজারমূল্য হারিয়েছে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার কোটি ডলার। বিনিয়োগকারীরা সরকারি নিয়ন্ত্রণ ও ঋণ পরিশোধের চাপ নিয়ে উদ্বিগ্ন। শুক্রবার প্রকাশিত এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- বৃহস্পতিবার ওয়াল স্ট্রিটের নাসডাক সূচক প্রায় ৫ দশমিক ৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে এবং গত এক মাসে সূচকটি প্রায় ১২ শতাংশ হারিয়েছে, যার ফলে নাসডাকভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর বাজারমূল্য থেকে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার কোটি ডলার কমে গেছে।
- ২০২৫ ও ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রায় ৩০ শতাংশ ডেটা সেন্টার খাতের বিনিয়োগ থেকে এসেছে এবং এ সময়ে এই খাতে ব্যয় প্রায় ১৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
- চ্যাটবট ক্লডের নির্মাতা অ্যানথ্রোপিক চলতি মাসে প্রায় ১০ হাজার কোটি ডলার সংগ্রহের লক্ষ্যে আইপিও ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তবে বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে এর প্রত্যাশিত মূল্যায়ন ২ লাখ কোটি ডলারে পৌঁছানো কঠিন হতে পারে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে বিপুল বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বিশ্ববাজারে। প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে বড় ধরনের দরপতন, ডেটা সেন্টার নির্মাণে বিপুল ব্যয় এবং ঋণের বোঝা বাড়তে থাকায় সম্ভাব্য আর্থিক সংকটের আশঙ্কা করছেন বিনিয়োগকারীরা। শুক্রবার প্রকাশিত এএফপির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পর এআই খাতে সরকারি নিয়ন্ত্রণ বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রি শুরু করেছেন। এর ফলে বৃহস্পতিবার ওয়াল স্ট্রিটে ব্যাপক দরপতনের পর নির্ভর নাসডাক সূচক প্রায় ৫.৫ শতাংশ কমে যায় এবং গত এক মাসে সূচকটি প্রায় ১২ শতাংশ হারিয়ে বাজারমূল্য থেকে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার কোটি ডলার হ্রাস পায়।
এআই র দ্রুত সম্প্রসারণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিশাল আকারের ডেটা সেন্টার তৈরি হচ্ছে, যা মডেল প্রশিক্ষণ ও পরিচালনার জন্য বিপুল কম্পিউটিং ক্ষমতা নিশ্চিত করে। ব্রুনো কাভালিয়েরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ ও ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রায় ৩০ শতাংশ এসেছে ডেটা সেন্টার খাতের বিনিয়োগ থেকে, যেখানে এ সময়ে ব্যয় বেড়েছে প্রায় ১৫০ শতাংশ। তবে পরিবেশদূষণ, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ও পানির সংকট এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির আশঙ্কায় এসব প্রকল্পের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি হয়েছে। এছাড়া, এআই খাতে বিনিয়োগের বড় অংশ ঋণের মাধ্যমে অর্থায়ন হওয়ায় উচ্চ সুদের হারের বাজারে প্রতিষ্ঠানগুলোর নতুন অর্থ সংগ্রহ ও পুরোনো ঋণ পরিশোধ কঠিন হয়ে উঠেছে।
প্যারিসভিত্তিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান কারমিনিয়াকের কেভিন থোজেট জানান, যেসব অঙ্গরাজ্যে ডেটা সেন্টার নির্মাণের বড় প্রকল্প রয়েছে, সেখানে ডেমোক্র্যাটদের বিজয়ের ফলে ব্যয় বৃদ্ধি ও নির্মাণকাজ দীর্ঘায়িত হতে পারে। এদিকে অ্যানথ্রোপিক চলতি মাসে শেয়ারবাজারে প্রায় ১০ হাজার কোটি ডলার সংগ্রহের লক্ষ্যে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, যার মূল্যায়ন ২ লাখ কোটি ডলার পর্যন্ত পৌঁছানোর ধারণা করা হয়েছিল। তবে বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে কাঙ্ক্ষিত মূল্যায়ন পাওয়া নিয়ে সংশয় রয়েছে। অন্যদিকে, প্রতিদ্বন্দ্বী ওপেনএআই তাদের আইপিও পরিকল্পনা আগামী বছর পর্যন্ত পিছিয়ে দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পরিবারগুলোর মোট সম্পদের প্রায় ৪৩ শতাংশ বর্তমানে শেয়ারবাজারের সঙ্গে যুক্ত থাকায় এই খাতের দীর্ঘস্থায়ী পতন সাধারণ মানুষের সঞ্চয় ও ভোগব্যয়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এআই খাতের সম্ভাবনা নিয়ে আগ্রহ থাকলেও অবকাঠামো নির্মাণে ব্যয়, ঋণের চাপ এবং সরকারি নিয়ন্ত্রণের আশঙ্কা বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করে তুলেছে। বিনিয়োগের গতি কমে গেলে এর প্রভাব শিল্প থেকে শুরু করে কর্মসংস্থান ও বৃহত্তর অর্থনীতিতে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।