জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনে জালিয়াতি রোধে আবেদনকারীর নিজের নামে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বিটিআরসির সঙ্গে এপিআই সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের কাজ চলছে। বর্তমানে একটি নম্বর দিয়ে একাধিক আবেদন করা গেলেও নতুন নিয়মে শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিবন্ধিত নম্বর থেকেই আবেদন করা সম্ভব হবে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- এনআইডি সংশোধনের আবেদনে জালিয়াতি ঠেকাতে আবেদনকারীর নিজের নামে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে এক নম্বর দিয়ে একাধিক আবেদন করার সুযোগ বন্ধ হবে।
- বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সঙ্গে এপিআই সংযোগ স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা চলছে, যা সম্পন্ন হলে মোবাইল নম্বর ও গ্রাহকের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা যাবে।
- ইসির এনআইডি অনুবিভাগের সিস্টেম ম্যানেজার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন জানিয়েছেন, বিটিআরসির সঙ্গে আলোচনা শেষ হলেই নতুন এই পদ্ধতি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হবে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনের আবেদনে চলমান জালিয়াতি ও প্রতারণা রোধে কঠোর ও নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংস্থার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে এনআইডি সংশোধনের আবেদন করতে হলে আবেদনকারীর নিজের নামে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। বর্তমান নিয়মে একটিমাত্র মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে একাধিক এনআইডি সংশোধনের আবেদন করার সুযোগ ছিল, যার অপব্যবহার করে প্রতারক চক্র প্রায়ই ভুক্তভোগীদের অজান্তে বিভিন্ন তথ্য পরিবর্তন করে ফেলত।
এই নতুন ব্যবস্থা কার্যকর করার জন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সঙ্গে নিবিড় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ইসির এনআইডি অনুবিভাগ। বিটিআরসির ডাটাবেজের সঙ্গে অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেসের (এপিআই) মাধ্যমে সংযোগ স্থাপন করা হলে আবেদনকারীর দেওয়া মোবাইল নম্বরটি তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হবে। অর্থাৎ, যার এনআইডি কার্ড, আবেদন করার সময় তার নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরটিই বাধ্যতামূলকভাবে ব্যবহার করতে হবে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, কেবল বিটিআরসি নয়, এনআইডি নিবন্ধন ও সংশোধন প্রক্রিয়া আরও গতিশীল এবং ত্রুটিমুক্ত করতে আরও নয়টি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এপিআই সংযোগ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতর, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন শাখা, বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন বিভাগ এবং জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলো।
ইসির এনআইডি অনুবিভাগের সিস্টেম ম্যানেজার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন নিশ্চিত করেছেন যে, বিটিআরসির সঙ্গে চলমান আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আলোচনা শেষ হওয়া মাত্রই এই নতুন পদ্ধতি চালু করা হবে। এছাড়া প্রবাসী বাংলাদেশিরা যাতে বিদেশে বসেও নির্বিঘ্নে এনআইডি সংশোধন সেবা গ্রহণ করতে পারেন, সে বিষয়েও একটি বিকল্প ও নিরাপদ ব্যবস্থার কথা ভাবছে নির্বাচন কমিশন।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।