যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের অনুসরণে জিসিসিভুক্ত উপসাগরীয় তিন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদহার অপরিবর্তিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভিত্তি সুদহার ৩ দশমিক ৯ শতাংশ, কাতারে আমানতের সুদহার ৪ দশমিক ১০ শতাংশ এবং বাহরাইনে ৪ দশমিক ৫০ শতাংশ বহাল রাখা হয়েছে। ডলারের সঙ্গে স্থানীয় মুদ্রার স্থির বিনিময় হার বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেড ১০-২ ভোটে সুদহার ৩.৭৫ থেকে ৪ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখার পর উপসাগরীয় অঞ্চলের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোও একই পথ অনুসরণ করে।
- সংযুক্ত আরব আমিরাতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক রাতারাতি আমানত সুবিধার বিপরীতে ভিত্তি সুদহার ৩.৯ শতাংশ এবং বাহরাইন আমানতের সুদহার ৪.৫০ শতাংশে স্থির রেখেছে।
- কাতারের কেন্দ্রীয় ব্যাংক আমানতের সুদহার ৪.১০%, ঋণের সুদহার ৪.৬০% এবং রেপো সুদহার ৪.৩৫% অপরিবর্তিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডের মুদ্রানীতি অনুসor করে জিসিসিভুক্ত উপসাগরীয় তিন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের সুদহার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটি ১০-২ ভোটে সুদহার ৩ দশমিক ৭৫ থেকে ৪ শতাংশের মধ্যে রাখার পর এই আঞ্চলিক সিদ্ধান্তগুলো আসে। যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান ও শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চিত্র পর্যালোচনা করেই ফেড এই অবস্থান নিয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক রাতারাতি আমানত সুবিধার বিপরীতে ভিত্তি সুদহার ৩ দশমিক ৯ শতাংশে অপরিবর্তিত রেখেছে। একই সঙ্গে কাতারের কেন্দ্রীয় ব্যাংক আমানতের সুদহার ৪ দশমিক ১০ শতাংশ, ঋণের সুদহার ৪ দশমিক ৬০ শতাংশ এবং রেপো সুদহার ৪ দশমিক ৩৫ শতাংশে বহাল রেখেছে। এছাড়া বাহরাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকও তাদের রাতারাতি আমানতের সুদহার ৪ দশমিক ৫০ শতাংশে অপরিবর্তিত রেখেছে।
উপসাগরীয় দেশগুলোর মুদ্রানীতিতে মার্কিন ফেডের প্রভাবের মূল কারণ হলো তাদের মুদ্রার সঙ্গে মার্কিন ডলারের স্থির বিনিময় হার। জিসিসির সদস্য দেশগুলো নিজেদের মুদ্রা ডলারের সঙ্গে বেঁধে রাখায় ফেডের নীতি পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তাদেরও সামঞ্জস্য রাখতে হয়। অন্যথায় স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সুদের হারের পার্থক্যের কারণে বিনিয়োগকারীরা পুঁজি সরিয়ে নিতে পারেন, যা স্থানীয় মুদ্রার ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
সুদহার অপরিবর্তিত থাকার ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষ আর্থিক পরিকল্পনায় একটি স্থিতিশীল পরিবেশ পাচ্ছে। এর ফলে ঋণের খরচ ও আমানতের মুনাফায় কোনো হঠাৎ অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে না। জিসিসির বাকি তিন দেশ সৌদি আরব, কুয়েত ও ওমান এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দিলেও, আর্থিক বিশ্লেষকদের ধারণা তারাও ফেডের পথেই হাঁটবে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।