ক্রিপ্টোকারেন্সির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় হ্যাকিংয়ের শিকার হওয়া প্ল্যাটফর্ম বাইন্যান্স জানিয়েছে, তারা নিরাপত্তা লঙ্ঘন রোধ ও ক্ষতিগ্রস্তদের শতভাগ ক্ষতিপূরণে ৬৩৪ কোটি ডলারেরও বেশি তহবিল বরাদ্দ করেছে। মার্কিন এফবিআই ও গোয়েন্দাদের সহায়তায় ইতোমধ্যে প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। আগামী ১ নভেম্বর থেকে ব্যবহারকারীদের জন্য অর্থ উত্তোলন সেবা পুনরায় চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই এবং বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, এই বিশাল সাইবার হামলার পেছনে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত হ্যাকার গোষ্ঠী 'লাজারাস গ্রুপ' বা 'ট্রেডারট্রেইটার' জড়িত রয়েছে।
- ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবহারকারীদের শতভাগ অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাইন্যান্স নিজস্ব তহবিল ও বিভিন্ন কোষাগার থেকে ৬৩৪ কোটি ডলারের বেশি অর্থ বরাদ্দ করেছে এবং প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের সম্পদ জব্দ করেছে।
- এই হ্যাকিংয়ের খবরের প্রভাবে ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজারে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং নিউইয়র্কে লেনদেনের সময় বিটকয়েনের দাম ৫ শতাংশ কমে ৭৬,৮০০ ডলারে নেমে আসে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ প্ল্যাটফর্ম বাইন্যান্সের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সাইবার হামলা ও অর্থ চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত শুক্রবার সংঘটিত এই নজিরবিহীন হ্যাকিংয়ে বড় অংকের ডিজিটাল সম্পদ বেহাত হয়, যা ক্রিপ্টো জগতের নিরাপত্তার ইতিহাসে অন্যতম বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে কোম্পানির একজন প্রকৌশলীর ল্যাপটপ হ্যাক হওয়ার কথা বলা হলেও পরবর্তীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আরও বেশ কিছু অনুপ্রবেশের পথ শনাক্ত করা হয়। বাইন্যান্সের সহ-প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রিচার্ড টেং জানান, অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে একাধিক ব্যক্তি এই হ্যাকিং চালিয়েছে এবং তথ্য মুছে ফেলার আধুনিক 'সেলফ-ডেস্ট্রাক্ট মেকানিজম' ব্যবহার করেছে।
এই ঘটনার পরপরই ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবহারকারীদের শতভাগ অর্থ ফেরত দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বাইন্যান্স। প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব তহবিল ও বিভিন্ন রিজার্ভ থেকে ৬৩৪ কোটি ডলারের বেশি অর্থ বরাদ্দ করেছে। বিটকয়েন, ইথেরিয়াম ও টেথারসহ মোট সাতটি প্রধান ক্রিপ্টোকারেন্সির হারানো সম্পদ এই ক্ষতিপূরণের আওতায় রয়েছে। এদিকে, মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই ও সিক্রেট সার্ভিস নিশ্চিত করেছে যে, এই হামলার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকার গোষ্ঠী লাজারাস গ্রুপ জড়িত। এর আগে ২০২৫ সালে বাইবিট এক্সচেঞ্জ থেকে ১৫০ কোটি ডলার চুরির ঘটনার জন্যও এই গ্রুপটিকে দায়ী করা হয়েছিল, যদিও উত্তর কোরিয়া বরাবরই এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যৌথ অভিযал চালিয়ে বাইন্যান্স ইতোমধ্যে চুরি যাওয়া সম্পদের মধ্য থেকে প্রায় ৩০০ কোটি ডলার জব্দ করতে সক্ষম হয়েছে। তবে বাকি ১০ শতাংশ সম্পদ উদ্ধার ও পুরোপুরি সুরক্ষিত করতে আরও কিছু সময় প্রয়োজন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আগামী ১ নভেম্বরের মধ্যে ব্যবহারকারীদের জন্য আটকে থাকা অর্থ উত্তোলন সেবা পুনরায় চালুর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। বাইন্যান্সের বিশ্বজুড়ে ৩০ কোটিরও বেশি নিবন্ধিত ব্যবহারকারী রয়েছে এবং ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী তাদের প্ল্যাটফর্মে ১৬০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের সম্পদ সংরক্ষিত রয়েছে।
এই আকস্মিক সাইবার হামলার ঘটনা বিশ্বজুড়ে ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। ঘটনার দিন নিউইয়র্কে লেনদেন চলাকালীন প্রধান ডিজিটাল মুদ্রা বিটকয়েনের দাম ৫ শতাংশ কমে ৭৬,৮০০ ডলারে নেমে আসে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা ডিজিটাল মুদ্রা বিনিময়ের ক্ষেত্রে সাইবার নিরাপত্তা ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতার মানদণ্ড নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে, যা ভবিষ্যতে ক্রিপ্টো বাজারের প্রবৃদ্ধি ও নিয়ন্ত্রণমূলক নীতিমালায় গভীর প্রভাব ফেলবে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।