নৈহাটির ১০৩ বছরের ঐতিহ্যবাহী বড়মা কালীপুজোয় উপচে পড়েছে লক্ষাধিক ভক্তের ভিড়। এ বছর প্রায় ১ কুইন্টাল ১০ কেজি সোনা ও রুপোর অলঙ্কারে রাজকীয় সাজে সেজেছেন বিশালাকার প্রতিমা। বিশেষ আকর্ষণের মধ্যে রয়েছে দেবীর কপালে হীরের টিপ। কঠোর নিরাপত্তাবলয়ের মধ্যে শতধিক সিসি ক্যামেরা এবং পুলিশি সুরক্ষায় চলছে এই ঐতিহাসিক পূজার উদযাপন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- নৈহাটির ১০৩ বছরের প্রাচীন বড়মা কালীপুজোয় এ বছর প্রায় ১ কুইন্টাল ১০ কেজি সোনা ও রুপোর অলঙ্কারে সাজানো হয়েছে বিশালাকার প্রতিমা।
- পুজোর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হিসেবে দেবী প্রতিমার কপালে শোভা পাচ্ছে একটি হীরের টিপ এবং সোনার চোখসহ প্রতিমা বিসর্জনের দীর্ঘদিনের রীতি বজায় রাখা হয়েছে।
- পুজো কমিটির মুখপাত্র অনন্ত চট্টোপাধ্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, বিপুল পরিমাণ অলঙ্কারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মন্দির চত্বরে শতাধিক সিসি ক্যামেরা ও পর্যাপ্ত পুলিশ প্রশাসন মোতায়েন করা হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
দীপাবলি ও কালীপুজোর বিশেষ তিথিতে উত্তর ২৪ পরগনার নৈহাটির ঐতিহ্যবাহী বড়মা কালীর পুজোকে কেন্দ্র করে ভক্তদের বাঁধভাঙা উল্লাস ও আবেগ লক্ষ্য করা গেছে। স্টেশন চত্বর থেকে অরবিন্দ রোড পর্যন্ত পুরো এলাকা জুড়ে ভক্তদের উপচে পড়া ভিড় তৈরি হয়েছে। মানত পূরণ ও দেবীর আশীর্বাদ নিতে রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে লক্ষাধিক পুণ্যার্থী নৈহাটিতে সমবেত হয়েছেন। ১০৩ বছরে পদার্পণ করা এই পুজোর সার্বিক আয়োজনে প্রতিবারের মতো এবারও রয়েছে নান্দনিক ও ভক্তিমূলক বিশেষ চমক।
এবারের পুজোয় নৈহাটির বড়মাকে প্রায় ১ কুইন্টাল ১০ কেজি সোনা ও রুপোর অলঙ্কারে সুসজ্জিত করা হয়েছে। সোনার মুকুট, বহুমূল্য নেকলেস, বালা-চুড়ি, নূপুরের পাশাপাশি দেবীর কপালে জ্বলজ্বল করছে একটি মূল্যবান হীরের টিপ। নৈহাটি বড়মা পুজো কমিটি সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছর ভক্তদের অনুদান ও মানত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেবীর গহনার বহরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার স্বার্থে ঠিক কত পরিমাণ সোনা এবং কত পরিমাণ রুপো ব্যবহার করা হয়েছে, তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
দীর্ঘদিনের প্রাচীন রীতি অনুযায়ী, বড়মার সোনার চোখসহ প্রতিমা বিসর্জনের বিধান রয়েছে, যা এবছরও কঠোরভাবে পালিত হবে। এ ছাড়াও পুজোর সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষার্থে মন্দির চত্বর ও এর আশেপাশের এলাকায় শতাধিক সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন করা হয়েছে। ভক্তদের দীর্ঘ লাইন ও ভিড় সুশৃঙ্খলভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে কমিটি নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
ঐতিহাসিক এই বড়মা পুজোর আকর্ষণ কেবল দর্শনেই সীমাবদ্ধ নয়, এর বিসর্জন পর্বের জন্যও বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পুজো কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বিসর্জনের দিন আকাশ থেকে হেলিকপ্টারযোগে দেবীর প্রতিমার উপর পুষ্পবৃষ্টি করা হবে। স্থানীয় অর্থনীতি ও পর্যটনেও এই পুজোর ব্যাপক প্রভাব রয়েছে, যা নৈহাটিকে সারা দেশের মানচিত্রে এক অনন্য মর্যাদায় ভূষিত করেছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।