কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়কে ইকো-রিসোর্টের নামে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ঝুঁকিপূর্ণ অবৈধ স্থাপনা। সম্প্রতি 'টুপটুপে' রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পর্যটক নিখোঁজ হওয়ার পরও প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। নেই কোনো অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা বা পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র। ফলে পর্যটকদের জীবন চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ এলাকায় ইকো-রিসোর্টের নামে অনুমোদনহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ অবৈধ স্থাপনার সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।
- সম্প্রতি অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যাওয়া 'টুপটুপে' রিসোর্টে অবস্থানরত নাহিদ ও তাঁর দুই শিশুকন্যার সন্ধান মিলছে না, যা প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তাকে সামনে এনেছে।
- অভিযুক্ত রিসোর্টগুলোতে কোনো ধরনের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, ফায়ার এক্সিট কিংবা পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র না থাকায় পর্যটকদের নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
কক্সবাজারের বিশ্বখ্যাত পর্যটন এলাকার মেরিন ড্রাইভ সড়কে ইকো-রিসোর্টের নামে গড়ে উঠেছে শত শত অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা। এসব রিসোর্টের বিরুদ্ধে পরিবেশ আইন লঙ্ঘন এবং বিল্ডিং কোড না মানার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলেও স্থানীয় প্রশাসন ও পর্যটন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ফলে প্রতিনিয়ত পর্যটকদের জীবন বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গত কয়েক দিন আগে মেরিন ড্রাইভের 'টুপটুপে' নামক একটি রিসোর্টে আকস্মিক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এই অগ্নিকাণ্ডে রিসোর্টটি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয় এবং ভেতরে থাকা পর্যটক নাহিদ ও তাঁর দুই শিশুকন্যাকে নিয়ে নিখোঁজ হওয়ার মর্মান্তিক তথ্য পাওয়া গেছে। স্থানীয় অটোচালক আমির হামজা সহ কয়েকজন সাহসিকতার সাথে উদ্ধারে এগিয়ে এলেও রিসোর্টটির নিজস্ব কোনো উদ্ধারকর্মী বা অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না।
অনুসন্ধানে জানা যায়, টুপটুপসহ অধিকাংশ রিসোর্টই পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের কোনো বৈধ অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছিল। এসব ভবনে ব্যবহারের জন্য ছিল না কোনো ফায়ার এক্সিট বা পর্যাপ্ত পানি সরবরাহের ব্যবস্থা। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, নিয়মবহির্ভূতভাবে গড়ে ওঠা এই স্থাপনাগুলো পর্যটকদের জন্য এক একটি মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
এই ঘটনার পর সাধারণ পর্যটক ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অবিলম্বে এসব অবৈধ রিসোর্ট সিলগালা করা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। অন্যথায় কক্সবাজারের পর্যটন শিল্প মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।