মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি সহমর্মিতা প্রদর্শন ও তাদের যথাযথ সেবা নিশ্চিত করতে পরিবার ও সমাজের সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। ‘জীবনের কথা শুনি, বাস্তব পরিবর্তন আনি’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজিত দিবসে তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সব স্তরে মানসিক সচেতনতা বাড়াতে এবং অবৈজ্ঞানিক চিকিৎসা পরিহার করে সঠিক চিকিৎসাসেবা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- এ বছরের মানসিক দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘জীবনের কথা শুনি, বাস্তব পরিবর্তন আনি’, যা মানসিক রোগীদের অভিজ্ঞতাকে নীতিমালায় গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দেয়।
- রাষ্ট্রপতি মানসিক সেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যকে সমন্বিত করার সরকারি উদ্যোগের কথা জানান।
- তিনি ঝাড়ফুঁক বা অবৈজ্ঞানিক চিকিৎসা পদ্ধতি পরিহার করে মানসিক সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তিদের জন্য যথাযথ বৈজ্ঞানিক চিকিৎসাসেবা গ্রহণের ওপর বিশেষ জোর দেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি সহমর্মিতা ও সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। তিনি তাদের যথাযথ মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত সহায়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। দেশের সব নাগরিকের সার্বিক মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কেন্দ্রগুলোতে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উদযাপনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘জীবনের কথা শুনি, বাস্তব পরিবর্তন আনি’ প্রতিপাদ্যটি বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ। মানসিক সমস্যার অভিজ্ঞতা যাদের রয়েছে, তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং সেবা পরিকল্পনায় তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়াই এ প্রতিপাদ্যের মূল বার্তা।
পরিবর্তিত পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা, সামাজিক অস্থিরতা, একাকিত্ব, মাদকাসক্তি এবং পারিবারিক ও কর্মক্ষেত্রের চাপ মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর গভীর প্রভাব ফেলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক সুস্থতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান সরকার মানসিক স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং একে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সমন্বিত করার কার্যক্রম চলছে।
মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা শনাক্তকরণ এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের দ্রুত চিকিৎসাসেবা প্রদানে পরিবার ও সমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মন্তব্য করেন। ঝাড়ফুঁক বা অবৈজ্ঞানিক চিকিৎসা পদ্ধতির পরিবর্তে আধুনিক ও যথাযথ চিকিৎসাসেবা গ্রহণের বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির আহ্বান জানিয়ে তিনি মানসিক স্বাস্থ্যসমৃদ্ধ ও কর্মক্ষম জাতি গঠনে সবাইকে একযোগে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।