নাটোরের লালপুরে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী পদে বয়সসীমা অতিক্রম করা এবং মৌখিক পরীক্ষায় অংশ না নিয়েও সোনিয়া খাতুনের নাম চূড়ান্ত তালিকায় আসায় তীব্র প্রশ্ন উঠেছে। নির্ধারিত বয়সসীমা সর্বোচ্চ ৪০ বছর হলেও তাঁর বয়স ৪১ ছাড়িয়েছে। ভাইভায় অংশ নিতে না পারার পরও এই অন্তর্ভুক্তির ঘটনায় নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে স্থানীয় মহলে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী পদে আবেদনের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৪০ বছর নির্ধারিত থাকলেও চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পাওয়া সোনিয়া খাতুনের জন্ম ১৯৮৪ সালে, যার বর্তমান বয়স ৪১ বছরের বেশি।
- বয়সসীমা অতিক্রম করায় পরীক্ষার দিন পরীক্ষকরা সোনিয়া খাতুনের মৌখিক বা ভাইভা গ্রহণ করেননি এবং তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি নিজে স্বীকার করেছেন।
- ভাইভায় অংশ না নেওয়া সত্ত্বেও চূড়ান্ত তালিকায় নাম কীভাবে অন্তর্ভুক্ত হলো, সে বিষয়ে লালপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
নাটোরের লালপুর উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী পদে জনবল নিয়োগের চূড়ান্ত তালিকা নিয়ে বড় ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত বয়সসীমা অতিক্রম করা এবং মৌখিক পরীক্ষায় সরাসরি অংশ না নিয়েও সোনিয়া খাতুন নামের এক প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সরকারি এই প্রকল্পের গুরুত্ব ও নীতিমালা অনুযায়ী নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সততা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার কথা থাকলেও তা লঙ্ঘিত হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয় চাকরিপ্রার্থীদের।
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত অনুযায়ী, তথ্য সংগ্রহকারী পদে আবেদনের সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪০ বছর। তবে সোনিয়া খাতুনের জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্মতারিখ অনুযায়ী তাঁর জন্ম ১৯৮৪ সালে, যা হিসাব করলে তাঁর বর্তমান বয়স ৪১ থেকে ৪২ বছরের মধ্যে দাঁড়ায়। বয়সসীমা পার হয়ে যাওয়ায় নির্ধারিত দিনে ভাইভা বোর্ডে গেলে পরীক্ষকরা তাঁকে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে না দিয়েই ফিরিয়ে দেন। খোদ প্রার্থীর এই স্বীকারোক্তির পরও চূড়ান্ত ফলাফলে তাঁর নাম শীর্ষ তালিকায় চলে আসায় পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ে ঘোর রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে লালপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি সম্পর্কে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি এবং দায় এড়িয়ে জানান বিষয়টি কর্তৃপক্ষ অবগত আছে। অন্যদিকে, ঘটনার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা জানতে লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেশকাতুল ইসলামের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের এমন নীরবতা ও উদাসীনতা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির অভিযোগকে আরও বেশি জোরালো করে তুলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি শুমারি বা এ ধরনের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের নিয়োগে এ ধরনের অনিয়ম মেধাবী ও যোগ্য প্রার্থীদের অধিকার ক্ষুণ্ন করে। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া এবং বিতর্কিত তালিকা বাতিল করে নতুন ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও ক্ষতিগ্রস্ত প্রার্থীরা। অন্যথায় এই নিয়োগ প্রক্রিয়া জনস্বার্থে বড় ধরনের আইনি জটিলতার মুখে পড়তে পারে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।