দুর্গাপূজার আগে মালদহের মানিকচকের ভূতনি চরে ফুলহার ও গঙ্গা নদীর ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ব্যক্তিগত উদ্যোগে দুর্গতদের অ্যাকাউন্টে প্রায় দুই লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি, আইআইটি কানপুরের পরামর্শ অনুযায়ী ভূতনি রক্ষায় ৩৭০০ কোটি টাকার দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা এবং মোট ২৪২ কোটি টাকা বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন ও ক্ষতিগ্রস্তরা।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- মালদহের মানিকচক ব্লকের ভূতনি চরে গঙ্গা ও ফুলহার নদীর ভাঙনে সর্বস্বান্ত ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রায় ২ লক্ষ টাকা ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়েছন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
- আইআইটি কানপুরের বিশেষজ্ঞ দল ভাঙন রোধ ও নদীর গতিপ্রকৃতি নিয়ন্ত্রণের জন্য ৩৭০০ কোটি টাকার একটি বড় পরিকল্পনা জমা দিয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে ভূতনি অঞ্চলের ভৌগোলিক চিত্র বদলে যাবে।
- চলমান ভাঙন পরিস্থিতি ও বাঁধ নির্মাণকাজের ধীরগতি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে, যা নিরসনে মোট ২৪২ কোটি টাকার প্রাথমিক বরাদ্দ নিয়ে আলোচনা চলছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
দুর্গাপূজার প্রাক্কালে মালদহ জেলার মানিকচক উপজেলার নদীভাঙন কবলিত ভূতনি চরের মানুষের কষ্ট লাঘবে এগিয়ে এলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ফুলহার ও গঙ্গা নদীর বিধ্বংসী ভাঙনে সর্বস্বান্ত হওয়া দুস্থ পরিবারের পাশে দাঁড়াতে তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রায় দুই লক্ষ টাকা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্তদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়েছেন। আসন্ন উৎসবের দিনে এই আর্থিক সাহায্য দুর্গত পরিবারগুলোর কিছুটা হলেও স্বস্তি এনে দিয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
দীর্ঘদিন ধরে মালদহের ভূতনি চর এলাকার প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে নদীভাঙন। ফুলহার নদীর ভাঙনে প্রতি বছর শত শত বিঘা আবাদি জমি ও বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এই স্থায়ী দুর্দশা ঘোচাতে এবং ভূতনি অঞ্চলকে চিরতরে রক্ষা করতে আইআইটি কানপুরের বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে প্রায় ৩৭০০ কোটি টাকার একটি বিশদ মহাপরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। প্রযুক্তিগত এই পরিকল্পনার আওতায় নদীর গতিপথ নিয়ন্ত্রণ এবং স্থায়ী প্রতিরক্ষামূলক বাঁধ নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে।
এদিকে, ভাঙনকবলিত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে বাঁধের কাজ শুরু না হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বারবার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও কাজের গতি অত্যন্ত মন্থর। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের তরફ থেকে ভূতনি রক্ষা প্রকল্পে মোট ২৪২ কোটি টাকা প্রাথমিক বরাদ্দের কথা বলা হয়েছে। প্রশাসনিক এই উদ্যোগ এবং আইআইটি কানপুরের সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে নদীভাঙনের আতঙ্ক থেকে চিরতরে মুক্তি পাবেন ভূতনিবাসী।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূতনি চরের এই ভাঙন রোধ কেবল একটি আঞ্চলিক সমস্যা নয়, এটি গোটা মালদহ জেলার অর্থনীতি ও নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত। বর্তমান এই আর্থিক সহায়তা এবং মেগা প্রকল্পের রূপায়ণ সঠিকভাবে সম্পন্ন হলে নদীভাঙন কবলিত এই জনপদের মানুষের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।