দিল্লির রামলীলা ময়দানে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের মেগা সমাবেশে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে তীব্র আক্রমণ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি পশ্চিমবঙ্গে লক্ষ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেন। গণতন্ত্র রক্ষায় যুবসমাজকে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মমতা একে ‘ভোট লুটের’ বিরুদ্ধে লড়াই হিসেবে অভিহিত করেছেন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ‘ভ্যানিশ কুমার’ আখ্যা দিয়ে তাঁর পদত্যাগ দাবি করেছেন এবং পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে লক্ষ লক্ষ নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন।
- সমাবেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘SIR’-এর নতুন ব্যাখ্যা দিয়ে একে ‘Special Intensive Relief to a Political Party like BJP’ হিসেবে অভিহিত করে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
- কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীকে ‘আমার নেত্রী’ এবং রাহুল গান্ধীকে ‘ইয়ং লিডার’ সম্বোধন করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী জোটের ঐক্যবদ্ধ লড়াই ও বিচার বিভাগের সক্রিয় ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
দিল্লির রামলীলা ময়দানে আয়োজিত ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বিশাল জনসভা থেকে বিজেপি সরকার এবং ভারতের নির্বাচন কমিশনকে একযোগে নিশানা করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রোববার অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে তিনি অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গে পরিকল্পিতভাবে লক্ষ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দিয়ে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করা হয়েছে। মমতা স্পষ্ট ভাষায় জানান, বিজেপি ভোট লুট করেছে এবং এই প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশন সরাসরি সহায়তা করেছে।
ভাষণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের তীব্র সমালোচনা করে তাঁকে ‘ভ্যানিশ কুমার’ বলে কটাক্ষ করেন। তিনি দাবি করেন, এসআইআর (SIR) ব্যবস্থার মাধ্যমে বিজেপিকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, যার পূর্ণরূপ তাঁর মতে ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিলিফ টু আ পলিটিক্যাল পার্টি লাইক বিজেপি’। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, সাধারণ মানুষের চাকরি, সাংবিধানিক অধিকার এবং ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে দেশে একনায়কতন্ত্র কায়েম করার চেষ্টা চলছে।
রাজনৈতিক ঐক্যের বার্তা দিতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীকে ‘আমার নেত্রী’ এবং রাহুল গান্ধীকে ‘তরুণ নেতা’ হিসেবে অভিহিত করেন। রাহুল গান্ধীর সঙ্গে একই গাড়িতে চড়ে সভাস্থলে পৌঁছে তিনি বাম দলসহ জোটের সকল শরিককে একসঙ্গে লড়াই করার আহ্বান জানান। বিশেষ করে দেশের যুবসমাজ ও ‘জেন-জি’ প্রজন্মকে আন্দোলনের সামনের সারিতে আসার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, “আপনারা লড়াইয়ের নেতৃত্ব দিন, আমরা আপনাদের পথ দেখাব।”
এই সমাবেশ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেশের বিচার বিভাগকেও সক্রিয় হওয়ার অনুরোধ জানান। তিনি মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিচার ব্যবস্থার হস্তক্ষেপ ছাড়া গণতন্ত্র রক্ষা করা অসম্ভব। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমরা হারিনি, আমাদের হারানো হয়েছে।” এই আন্দোলনের মাধ্যমে তিনি জাতীয় রাজনীতিতে বিজেপিবিরোধী মেরুকরণকে আরও শক্তিশালী করার এবং ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।