আসন্ন রমজান মাসকে সামনে রেখে বাজারে ভোজ্যতেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে মিল মালিক ও ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এই প্রস্তাব জমা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি ও ডলারের বিনিময় হারের অজুহাতে এই মূল্যবৃদ্ধির পাঁয়তারা চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- আসন্ন রমজান উপলক্ষে ভোজ্যতেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বাড়ানোর আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন।
- বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন এই প্রস্তাব পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য বর্তমানে বৈঠক চালিয়ে যাচ্ছে।
- এর আগে আন্তর্জাতিক বাজারে পাম তেল ও সয়াবিন তেলের টনপ্রতি আমদানি মূল্য বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে মিল মালিকরা দাম বাড়ানোর চাপ সৃষ্টি করে আসছিলেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
আসন্ন পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে দেশের বাজারে ভোজ্যতেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এই প্রস্তাবে সয়াবিন ও পাম অয়েলের নতুন দাম নির্ধারণের অনুরোধ জানানো হয়েছে, যা কার্যকর হলে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হবে।
ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত ভোজ্যতেলের কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি এবং স্থানীয় মুদ্রার বিপরীতে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার উর্ধ্বমুখী থাকায় উৎপাদন ও আমদানিতে খরচ বেড়ে গেছে। তবে বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রমজানের ঠিক আগে এ ধরনের প্রস্তাব কৃত্রিম সংকট তৈরি এবং অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের একটি পুরনো কৌশল মাত্র।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ব্যবসায়ীদের এই প্রস্তাবটি বর্তমানে বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে রয়েছে। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও বাজারের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা না করে এক লাফে লিটারে ১৫ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলে মূল্যস্ফীতি আরও উসকে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।
সরকারের নীতিনির্ধারক মহল ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বর্তমানে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। রমজানে ভোজ্যতেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে শুল্ক কমানোর পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকে তেল আমদানির বিষয়েও চিন্তাভাবনা চলছে, যাতে সিন্ডিকেটের কারসাজি রোধ করে ভোক্তাদের স্বস্তি দেওয়া সম্ভব হয়।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।