রাঙামাটির সাজেক সড়কে পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটির ১২ ঘণ্টার অবরোধ এবং পরিবহন শ্রমিকদের পাল্টা অবরোধের কারণে রোববার সকাল থেকে দীঘিনালা-সাজেক-বাঘাইছড়ি রুটে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। সহিংসতা, সশস্ত্র তৎপরতা ও নিরাপত্তা দাবির পাশাপাশি শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে পাল্টাপাল্টি এই কর্মসূচিতে বাঘাইছড়ি থেকে কোনো যাত্রীবাহী গাড়ি ছেড়ে না যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পর্যটক ও সাধারণ যাত্রীরা।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব বিন্দু লাল চাকমার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে সাজেকে সহিংসতা, সশস্ত্র তৎপরতা ও পর্যটকদের জিম্মি করে হামলার প্রতিবাদে ১২ ঘণ্টার এই সড়ক অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
- শনিবার ৩১ অক্টোবর কলাবুনিয়া এলাকায় নতুন করে গোলাগুলির ঘটনার জেরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়।
- পরিবহন শ্রমিক ও চালকরা দীর্ঘদিন ধরে অবরোধের কারণে বেকার থাকায় বেতন-ভাতা বৃদ্ধি এবং যত্রতত্র সড়ক অবরোধের প্রতিবাদে দীঘিনালা-সাজেক-বাঘাইছড়ি রুটে অনির্দিষ্টকালের পাল্টা অবরোধ শুরু করেছেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
রাঙামাটির জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র সাজেকমুখী সড়কে স্থানীয় সংগঠন ও পরিবহন শ্রমিকদের পাল্টাপাল্টি অবরোধের কারণে দীঘিনালা-সাজেক-বাঘাইছড়ি রুটে রবিবার সকাল থেকে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলা থেকে কোনো যাত্রীবাহী জিপ বা পিকআপ ছেড়ে যায়নি এবং টিকিট কাউন্টারগুলোও বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে রাঙামাটি থেকে খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও নানিয়ারচরসহ অন্যান্য আন্তজেলা রুটে বাস চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
গত ২২ অক্টোবর থেকে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে তৃতীয় দফায় অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চলছে। সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদার কথা বিবেচনা করে সংগঠন দুটি ১ নভেম্বর এক দিনের জন্য অবরোধ শিথিলের ঘোষণা দেয়। তবে এর মধ্যেই পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটি সাজেকে সশস্ত্র তৎপরতা ও সহিংসতার প্রতিবাদে নতুন করে ১২ ঘণ্টার অবরোধের ডাক দেয়। অন্যদিকে, বারবার অবরোধের কারণে বেকার হয়ে পড়া চালক ও শ্রমিকেরা বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে পাল্টা অবরোধ শুরু করেন।
বাঘাইছড়ি যাত্রীবাহী পিকআপ ও জিপ কাউন্টারের লাইনম্যান স্বপন কান্তি দে ও রুনু কান্তি দে জানান, শ্রমিকদের ন্যায্য বেতন-ভাতা বৃদ্ধি এবং যত্রতত্র সড়ক অবরোধ ঘোষণার প্রতিবাদেই তারা গাড়ি না চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অন্যদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত শনিবার ৩১ অক্টোবর কলাবুনিয়া এলাকায় নতুন করে গোলাগুলির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। জেএসএসের সন্তু লারমা-সমর্থিত সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক থেকে অপসারণ এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
সাজেক সড়কে এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি ও পাল্টাপাল্টি অবরোধের ফলে পাহাড়ি জনপদের সাধারণ মানুষ এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকেরা মারাত্মক দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। পর্যটনশিল্পের ওপর নির্ভরশীল এই অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। দ্রুত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আলোচনার মাধ্যমে এই অচলাবস্থার অবসান ঘটানো জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।