দেশের পুঁজিবাজারে তারল্য সংকট নিরসনে ব্যাংকগুলোর জন্য গঠিত বিশেষ তহবিলের মেয়াদ আরও এক বছর বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ব্যাংকগুলো ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই তহবিল ব্যবহারের সুযোগ পাবে। ২০২০ সালে প্রবর্তিত এই তহবিলের মাধ্যমে ব্যাংকগুলো তাদের এক্সপোজার সীমার বাইরে বিনিয়োগ করতে পারে, যা বাজারের তারল্য প্রবাহ সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- বাংলাদেশ ব্যাংক বিশেষ তহবিলের মেয়াদ ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকে বাড়িয়ে ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করেছে।
- ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রবর্তিত এই তহবিলের বিনিয়োগ ব্যাংকগুলোর প্রচলিত পুঁজিবাজার এক্সপোজার সীমার বাইরে রাখা হয়েছে, যা অতিরিক্ত বিনিয়োগের সুযোগ দেয়।
- ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ) তহবিলের সীমা ২০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ কোটি টাকা এবং মেয়াদ ২০৩১ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
দেশের পুঁজিবাজারে দীর্ঘস্থায়ী তারল্য সংকট ও বিনিয়োগকারীদের আস্থার ঘাটতি মোকাবিলায় ব্যাংকগুলোর জন্য গঠিত বিশেষ তহবিলের মেয়াদ আরও এক বছর বৃদ্ধি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তফসিলি ব্যাংকগুলো এখন ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই বিশেষ তহবিলের অর্থ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে পারবে। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে করোনা মহামারীর প্রভাবে সৃষ্ট বাজার অস্থিরতা কাটাতে এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল।
এই তহবিলের মূল বৈশিষ্ট্য হলো, এর মাধ্যমে ব্যাংকগুলো তাদের প্রচলিত পুঁজিবাজার এক্সপোজার সীমার বাইরে বিনিয়োগ করার সুযোগ পায়। ফলে নির্ধারিত বিনিয়োগসীমার অতিরিক্ত চাপ ছাড়াই ব্যাংকগুলো শেয়ারবাজারে সক্রিয় থাকতে পারে। বর্তমানে প্রতিটি ব্যাংক নিজস্ব তহবিল থেকে সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত এই বিশেষ সুবিধা গ্রহণ করতে পারে, যা বাজারের তারল্য সরবরাহ বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।
তবে বাজারসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কেবল মেয়াদ বাড়ানোই যথেষ্ট নয়। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ) সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে তহবিলের সীমা ২০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ কোটি টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব দিয়েছে। একইসঙ্গে তারা তহবিলের মেয়াদ ২০৩১ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে, যাতে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, পুঁজিবাজারের সংকট কাটাতে শুধু তহবিলের মেয়াদ বা সীমা বাড়ানোই যথেষ্ট নয়। এর পাশাপাশি বাজারে সুশাসন নিশ্চিত করা, ভালো মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানির তালিকাভুক্তি বাড়ানো এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা জরুরি। এই পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়িত হলে পুঁজিবাজারে দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।