সনদবিহীন ও অদক্ষ অপারেটর দিয়ে ফাইব্রোস্ক্যান পরীক্ষা পরিচালনার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সঙ্গে তাদের সেবা প্রদান চুক্তি স্থগিত করেছে কেএনএস কানাডা। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং লিভার পরীক্ষার সঠিক মান বজায় রাখতে কেএনএস কানাডার পক্ষ থেকে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দেশজুড়ে স্বাস্থ্যসেবা খাতে মান নিয়ন্ত্রণ ও নিয়ম মেনে চলার ওপর এর মাধ্যমে নতুন চাপ সৃষ্টি হলো।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সঙ্গে ফাইব্রোস্ক্যান সেবা দেওয়ার চুক্তি তাৎক্ষণিকভাবে স্থগিত করেছে প্রযুক্তি ও সেবা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কেএনএস কানাডা।
- কেএনএস কানাডার তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে যে, কোনো ধরনের বৈধ সনদ বা পেশাদার প্রশিক্ষণ ছাড়াই সংশ্লিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ফাইব্রোস্ক্যান পরীক্ষা পরিচালনা করা হচ্ছিল।
- রোগীদের নির্ভুল ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে এবং লিভার পরীক্ষার উচ্চ মান বজায় রাখতে এই সেবা কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
সনদবিহীন ও অপ্রশিক্ষিত অপারেটর দিয়ে লিভারের ফাইব্রোস্ক্যান পরীক্ষা পরিচালনার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সঙ্গে এই সেবা কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে কেএনএস কানাডা। প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কেএনএস কানাডার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, নির্ধারিত আন্তর্জাতিক মান ও প্রটোকল লঙ্ঘন করে পরীক্ষা চালানোর কারণে তারা এই কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছেন।
ফাইব্রোস্ক্যান হলো লিভারের ফাইব্রোসিস বা সিরোসিস নির্ণয়ের একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং আধুনিক প্রযুক্তিগত পরীক্ষা। এই পরীক্ষা পরিচালনার জন্য অপারেটরকে নির্দিষ্ট চিকিৎসাবিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ এবং স্বীকৃত সনদ থাকতে হয়। অথচ পপুলার ডায়াগনস্টিকের সংশ্লিষ্ট শাখায় কোনো বৈধ সনদ ছাড়াই পরীক্ষা করানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ ওঠে, যা রোগীদের ভুল রিপোর্ট পাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে।
কেএনএস কানাডার এই সিদ্ধান্তের পর দেশের চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা খাতের সংশ্লিষ্টরা সাধুবাদ জানিয়েছেন। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল বাণিজ্যিক স্বার্থে অদক্ষ জনবল দিয়ে রোগ নির্ণয় সেবা পরিচালনা করলে তা সাধারণ রোগীদের জীবনের সঙ্গে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করে। এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণে অন্যান্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এই ঘটনার ফলে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে সাময়িক অসন্তোষ তৈরি হলেও ভবিষ্যতে মানসম্মত ডায়াগনস্টিক সেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটি একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো দেশের সব ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকে নিয়োজিত অপারেটরদের সনদ ও যোগ্যতা যাচাইয়ে জোরালো নজরদারি শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।