সিনেমায় অভিনয় না করে ১৫ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে অভিনেতা তথা প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সোহম চক্রবর্তীর আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করেছে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চ। ২০১৮ সালে বালুরঘাটের এক প্রযোজকের অভিযোগের ভিত্তিতে এই মামলা দায়ের হয়। এছাড়া সম্প্রতি চারু মার্কেট ও বেহালা থানাতেও তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চ অভিনেতা ও প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সোহম চক্রবর্তীর আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে।
- বালুরঘাট শহরের মঙ্গলপুরের প্রযোজক তরুণ দাসের অভিযোগ অনুযায়ী, প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের জন্য ধাপে ধাপে ১৫ লক্ষ টাকা অগ্রিম নিলেও শুটিং করেননি সোহম এবং টাকা ফেরত চাননি।
- চলতি বছরের জুন ও আগস্ট মাসে চারু মার্কেট ও বেহালা থানায় সোহম চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে প্রতারণা, মারধর, জোর করে আটকে রাখা এবং টাকা না দেওয়ার অভিযোগে পৃথক এফআইআর দায়ের হয়েছিল।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
আইনি জটিলতায় আরও গভীরে জড়িয়ে পড়েছেন জনপ্রিয় অভিনেতা এবং প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সোহম চক্রবর্তী। বালুরঘাট থানায় দায়ের হওয়া একটি প্রতারণার মামলায় তাঁর করা আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চ। এর ফলে তাঁর গ্রেপ্তারির শঙ্কা আরও ঘনীভূত হয়েছে বলে মনে করছেন আইনি বিশেষজ্ঞরা।
ঘটনার সূত্রপাত ২০১৮ সালে। বালুরঘাট শহরের মঙ্গলপুর এলাকার বাসিন্দা এবং চলচ্চিত্র প্রযোজক তরুণ দাস একটি নতুন চলচ্চিত্র নির্মাণের পরিকল্পনা করেছিলেন। সেই ছবির মুখ্য চরিত্রে অভিনয়ের জন্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় সোহম চক্রবর্তীর সঙ্গে। অভিযোগ রয়েছে, অভিনয়ের পারিশ্রমিক বাবদ ধাপে ধাপে মোট ১৫ লক্ষ টাকা অগ্রিম গ্রহণ করেন অভিনেতা। কিন্তু এরপর থেকেই নানা অজুহাতে শুটিংয়ের তারিখ পিছোতে শুরু করেন তিনি। দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও তিনি কাজ শেষ করেননি এবং পরবর্তীতে সেই অগ্রিম অর্থ ফেরত দিতেও অস্বীকার করেন। শুধু তাই নয়, প্রযোজককে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
তবে এই প্রথম নয়, সম্প্রতি অভিনেতা সোহমের বিরুদ্ধে আইনি পাহাড়প্রমাণ অভিযোগ জমা পড়েছে। চলতি বছরের জুন মাসে চারু মার্কেট থানায় তাঁর বিরুদ্ধে ১ কোটি ৫ লক্ষ টাকা নিয়ে অভিনয় না করার অভিযোগে জামিনঅযোগ্য ধারায় এফআইআর দায়ের করা হয়। এছাড়া গত আগস্ট মাসে বেহালা থানায় আরও একটি মামলা রুজু হয়, যেখানে ফ্ল্যাটের ইন্টিরিয়র ডিজাইনের কাজ করিয়ে পারিশ্রমিক না দেওয়া, মারধর এবং জোর করে আটকে রাখার গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
একাধিক থানায় আর্থিক প্রতারণা ও হুমকির মামলা এবং উচ্চ আদালতে আগাম জামিন খারিজ হওয়ায় সোহম চক্রবর্তীর রাজনৈতিক ও অভিনয় জীবনে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পুলিশ যেকোনো সময় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।