দেশের বাজারে টানা দুই দিনের ব্যবধানে বড় ধরনের পতন ঘটেছে স্বর্ণের দামে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) নির্ধারিত নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ১৭ হাজার ৫৯২ টাকায়। দুই দিনে ২২ ক্যারেট স্বর্ণে মোট ৭ হাজার ১১৫ টাকা কমানো হয়েছে। পাশাপাশি কমেছে সব ধরনের রুপার দামও।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- বাজুসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ১৭ হাজার ৫৯২ টাকায়।
- দুই দিনে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম কমেছে মোট ৭ হাজার ১১৫ টাকা, যা এর আগের দিন শুক্রবার ১ হাজার ৬৩৩ টাকা কমানোর মাধ্যমে শুরু হয়।
- স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামও কমানো হয়েছে; যেখানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ১৭৫ টাকা কমে ৩ হাজার ৪৯৯ টাকায় নির্ধারিত হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে ফের বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা গেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) গত শনিবার নতুন এই মূল্যতালিকা ঘোষণা করে, যা ইতিমধ্যে দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে কার্যকর হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ১৭ হাজার ৫৯২ টাকায়। এই ধারাবাহিকতায় ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ২ লাখ ৭ হাজার ৭৯৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৭৮ হাজার ৪৫৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ ১ লাখ ৪৫ হাজার ৮০০ টাকায় নির্ধারিত হয়েছে।
এর আগের দিন শুক্রবারও ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ভরিতে ১ হাজার ৬৩৩ টাকা কমিয়েছিল বাজুস। সেদিন প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা। মূলত গত দুই দিনের ব্যবধানে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম কমেছে মোট ৭ হাজার ১১৫ টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারে বুলিয়ন মার্কেটের দরপতন এবং স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পাকা স্বর্ণ) দাম কমার কারণে বাজুস এই মূল্য সমন্বয় করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
স্বর্ণের পাশাপাশি মূল্যবান ধাতু রুপার দামেও বড় ধরনের কাটছাঁট করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ১৭৫ টাকা কমিয়ে ৩ হাজার ৪৯৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ২১ ক্যারেটের রুপা ৩ হাজার ৩৮৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপা ২ হাজার ৯১৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ২ হাজার ২১৬ টাকায় বিক্রির নির্দেশ দিয়েছে সংগঠনটি। বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত দেশের সকল স্বর্ণ ব্যবসায়ী এই মূল্যতালিকা কঠোরভাবে অনুসরণ করবেন।
বাজারে স্বর্ণ ও রুপার এই দাম হ্রাসের ফলে সাধারণ ক্রেতা ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। অনেক দিন ধরে চলা উচ্চমূল্যের বাজার পরিস্থিতিতে গহনা ক্রেতারা পিছিয়ে ছিলেন। ব্যবসায়ীদের মতে, দাম কমার এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে জুয়েলারি খাতে স্থবিরতা কেটে গিয়ে বিক্রি কিছুটা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা দেশের ডমেস্টিক বুলিয়ন মার্কেটে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।