গাজীপুরের টঙ্গী ও সফিপুর এলাকায় ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল এবং ইবনে সিনা ওষুধ কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার চার দিন পর ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কারখানা দুটিতে হঠাৎ আগুন লাগার কারণ, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট কমিটিকে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- গাজীপুরের টঙ্গী ও সফিপুরে ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল এবং ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের কারখানায় লাগা আগুনের ঘটনায় চার দিন পর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
- তদন্ত কমিটিতে ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের রাখা হয়েছে, যারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কারখানার অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, ফায়ার ফাইটিং ইকুইপমেন্ট এবং কমপ্লায়েন্সের ঘাটতিগুলো খতিয়ে দেখবেন।
- প্রাথমিক অনুসন্ধানে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত কারণ এবং আর্থিক ক্ষতির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ নিরূপণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে সুনির্দিষ্ট সুপারিশমালা তৈরি করবে গঠিত তদন্ত দল।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
গাজীপুরের টঙ্গী ও সফিপুর এলাকার দুটি গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ কারখানা—ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল এবং ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের হারবাল ইউনিটে সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার চার দিন পর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত কয়েক দিনে এই দুটি শিল্প কারখানায় পরপর আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয় শ্রমিক, এলাকাবাসী এবং ওষুধ শিল্প মালিকদের মাঝে গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে।
গত কয়েক দিন ধরে গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলগুলোতে একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটায় কারখানার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও তদারকি ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে ইবনে সিনার সফিপুর প্লান্ট এবং টঙ্গীর ড্রাগ ইন্টারন্যাশনালের কারখানায় আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘনবসতিপূর্ণ ও শিল্পঘন এলাকায় অবস্থিত এই কারখানাগুলোতে পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, ইমার্জেন্সি এক্সিট এবং ফায়ার ফাইটিং সরঞ্জাম যথাযথভাবে কাজ করছিল কি না, তা এখন তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ফায়ার সার্ভিসের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গঠিত তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরিদর্শন করবে এবং কারখানা দুটির ব্যবস্থাপক, প্রকৌশলী ও প্রত্যক্ষদর্শী শ্রমিকদের সাক্ষ্য গ্রহণ করবে। বৈদ্যুতিক গোলযোগ, শর্টসার্কিট নাকি অন্য কোনো অন্তর্ঘাতমূলক কারণে এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে, তা ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, এই দুর্ঘটনায় কী পরিমাণ কাঁচামাল, উৎপাদিত ওষুধ ও যন্ত্রপাতি পুড়ে ছাই হয়েছে, তার একটি আর্থিক হিসাব দাঁড় করানোর কাজও চলছে।
টঙ্গী ও সফিপুরের এই অগ্নিকাণ্ড কেবল সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যই নয়, বরং দেশের পুরো ওষুধ শিল্প খাতের সুরক্ষার ক্ষেত্রে একটি বড় সতর্কবার্তা। তদন্ত কমিটির এই প্রতিবেদন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো কারখানাগুলোতে নিরাপত্তা বিধিমালা আরও কঠোরভাবে বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে, শ্রমজীবী মানুষের কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব শিল্প কারখানায় নিয়মিত মক ড্র ও ফায়ার অডিট বাধ্যতামূলক করার দাবি জোরালো হয়েছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।