কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে গভীর নলকূপ খননের সময় ভূগর্ভ থেকে নির্গত গ্যাসে জ্বলে ওঠা আগুন আরও সাত দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে বাপেক্স। গত মঙ্গলবার ভোরে শুরু হওয়া এই আগুন নেভানোর চেষ্টা করলে বড় ঝুঁকির আশঙ্কা রয়েছে। দুর্ঘটনা এড়াতে পনেরো কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং দুইশ মিটার এলাকা ঘিরে রেখেছে প্রশাসন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ভোরে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ইনানী ছোট খাল সেতুসংলগ্ন এলাকায় মোহাম্মদ আবদুল্লাহর বসতভিটায় গভীর নলকূপ স্থাপনের সময় ভূগর্ভ থেকে গ্যাস নির্গত হয়ে আগুন ধরে যায়।
- পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে আসা বাপেক্সের ভূতাত্ত্বিক জরিপ দলের প্রধান ও ব্যবস্থাপক এস এম নাফিফুন আরহাম জানান, প্রায় এক হাজার ফুট গভীরে গ্যাসের স্তরের কাছাকাছি পৌঁছানোয় ফাটল দিয়ে গ্যাস ভূপৃষ্ঠে উঠে আসছে এবং আগুন জ্বলতে আরও সাত দিন লাগতে পারে।
- ঝুঁকি এড়াতে মনখালী থেকে পাটুয়ারটেক পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে এবং ঘটনাস্থলের আশপাশের ২০০ মিটার এলাকা বিচ্ছিন্ন করার উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ইনানীতে গভীর নলকূপ স্থাপনের সময় ভূগর্ভ থেকে নির্গত গ্যাসে জ্বলে ওঠা আগুন আরও অন্তত সাত দিন জ্বলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)। গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ভোরে জালিয়াপালং ইউনিয়নের ইনানী ছোট খাল সেতুসংলগ্ন এলাকায় মোহাম্মদ আবদুল্লাহর বসতভিটায় নলকূপের জন্য মাটি খোঁড়ার সময় হঠাৎ গ্যাস বের হয়ে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। দীর্ঘ ৩৬ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে এই আগুন জ্বলতে থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
বাপেক্স বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মুহূর্তে আগুন নেভানোর কোনো ধরনের চেষ্টা করা হলে ভূগর্ভের চাপ ভিন্ন দিকে প্রবাহিত হয়ে অন্য কোনো স্থান দিয়ে গ্যাস বের হতে পারে, যা আরও বড় ধরনের বিপর্যয়ের ডেকে আনতে পারে। এই সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতেই অত্যন্ত সতর্কতামূলক অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন ও বাপেক্সের বিশেষায়িত দল। ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বাপেক্সের ব্যবস্থাপক (ভূতত্ত্ব) ও ভূতাত্ত্বিক জরিপ দলের দলপ্রধান এস এম নাফিফুন আরহাম। তার প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, প্রায় এক হাজার ফুট গভীরে নলকূপ খননের সময় গ্যাসের স্তরের কাছাকাছি পৌঁছানো হয়েছিল এবং ভূতাত্ত্বিক চ্যুতির কারণে এই গ্যাস ওপরে চলে আসছে।
দুর্ঘটনা এড়াতে এবং জনসাধারণের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মনখালী থেকে পাটুয়ারটেক পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ উপকূলীয় এলাকায় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি, ঘটনাস্থলের আশপাশের ২০০ মিটার এলাকা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন ও সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। বাপেক্সের কারিগরি দল ঘটনাস্থল থেকে গ্যাসের নমুনা সংগ্রহ করেছে এবং এর গুণগত মান ও প্রকৃতি পরীক্ষার কাজ চলছে।
এই ভূগর্ভস্থ গ্যাস উদ্গীরণ ও দীর্ঘমেয়াদী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা স্থানীয় পরিবেশ এবং জনজীবনের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। যদিও প্রাথমিকভাবে এটি স্থানীয় কোনো বড় গ্যাসক্ষেত্রের সন্ধান কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত করতে আরও বিস্তারিত বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ ও গভীর ভূগর্ভস্থ জরিপের প্রয়োজন রয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বজায় রাখাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।