সরকার ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ন্ত্রণে নতুন নীতিমালা ও গেজেট প্রকাশ করেছে। মহাসড়ক এবং নগরীর প্রধান সড়কে এসব যান চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নীতিমালায় রিকশার সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার নির্ধারণ এবং নিবন্ধন ফি ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা ধার্য করা হয়েছে। বিআরটিএ-এর মাধ্যমে এই নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- মহাসড়ক এবং শহরের প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তবে নির্ধারিত ফিডার রোডে এগুলো চলতে পারবে।
- এসব যানের সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে এবং প্রতিটি রিকশার জন্য ৮,০০০ থেকে ১০,০০০ টাকা নিবন্ধন ফি দিতে হবে।
- সরকার প্রকাশিত গেজেট অনুযায়ী, বিআরটিএ থেকে নিবন্ধন গ্রহণ বাধ্যতামূলক এবং চালকদের জন্য নির্দিষ্ট লাইসেন্স ও বয়সসীমা ১৮ থেকে ৬০ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
দেশে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে নতুন নীতিমালা জারি করেছে সরকার। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ কর্তৃক প্রকাশিত এই গেজেট অনুযায়ী, এখন থেকে মহাসড়ক এবং শহরের প্রধান সড়কগুলোতে এসব যান চলাচল করতে পারবে না। তবে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত ফিডার রোড বা সংযোগ সড়কে এগুলো চলাচলের অনুমতি পাবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খলা নিরসন এবং সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নীতিমালায় কারিগরি ও আর্থিক বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ব্যাটারিচালিত রিকশার নিবন্ধন ফি ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া যানের সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। যানে ব্যবহৃত ব্যাটারি এবং মোটর অবশ্যই বিআরটিএ অনুমোদিত মানসম্পন্ন হতে হবে। অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে চার্জ দেওয়া বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ রয়েছে নীতিমালায়।
চালকদের যোগ্যতার বিষয়ে বলা হয়েছে, চালকের বয়স অবশ্যই ১৮ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেকে চালক লাইসেন্স সংগ্রহ করতে হবে। এছাড়া রিকশায় যাত্রী ধারণক্ষমতা সর্বোচ্চ ২ জন এবং মালামাল পরিবহনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ওজনসীমা মেনে চলতে হবে। বিআরটিএ এবং স্থানীয় সরকার প্রশাসন যৌথভাবে এই নীতিমালা বাস্তবায়নে কাজ করবে।
এই নতুন নীতিমালা বাস্তবায়নের ফলে একদিকে যেমন বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে, অন্যদিকে যত্রতত্র রিকশা চলাচলের কারণে সৃষ্ট যানজট হ্রাস পাবে। তবে রিকশা চালক ও মালিকদের পক্ষ থেকে নিবন্ধন ফি কমানোর দাবি জানানো হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, জননিরাপত্তা ও আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতেই এই কঠোর আইনি কাঠামো তৈরি করা হয়েছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।