দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-ছেলে ও ভাইবোনসহ অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে রংপুরের মিঠাপুকুরে দাঁড়িয়ে থাকা ডাম্প ট্রাকে বাসের ধাক্কায় চারজন এবং নারায়ণগঞ্জের বন্দরে বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে বাবা-ছেলে প্রাণ হারান। এছাড়া দিনাজপুর, গোপালগঞ্জ ও পাবনায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় আরও তিনজন নিহত হন। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত পাঁচজন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- রংপুরের মিঠাপুকুরের বৈরাগীগঞ্জ এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা ডাম্প ট্রাকে খান এন্টারপ্রাইজের একটি যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় বাসের হেলপারসহ চারজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হন।
- নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার কেওডালা বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস ও সিমেন্টবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বাবা ও ছেলে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।
- দিনাজপুর, গোপালগঞ্জ ও পাবনায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক, ব্যবসায়ী ও কলেজছাত্রসহ আরও তিনজন নিহত হয়েছেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-ছেলে ও ভাইবোনসহ অন্তত নয়জনের প্রাণহানি ঘটেছে। বেপরোয়া গতি ও দাঁড়িয়ে থাকা যানবাহনকে ধাক্কা দেওয়ার প্রবণতার কারণে এসব মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহতদের মধ্যে বিভিন্ন এলাকার পেশাজীবী ও শিক্ষার্থী রয়েছেন।
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বৈরাগীগঞ্জ শাহ আমানত পেট্রোলপাম্পের বিপরীত পাশে বুধবার ভোরে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীগামী খান এন্টারপ্রাইজের একটি দ্রুতগামী যাত্রীবাহী বাস মহাসড়কের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা একটি মাটিভর্তি ডাম্প ট্রাকের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই বাসের সহকারী আপেল মাহমুদ (২৫) নিহত হন। পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার মোজাফফর রহমান (৩৫), গোলাপী বেগম (৪০) এবং উলিপুরের আলমগীর হোসেন (৫০) মারা যান। বড়দরগা হাইওয়ে থানার ওসি মোয়াজ্জেম উদ্দিন চারজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে, নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার কেওডালা বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস ও সিমেন্টবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বাবা ও ছেলে নিহত হন এবং অন্তত পাঁচজন আহত হন। এছাড়া দিনাজপুর-রংপুর মহাসড়কের চিরিরবন্দরের রানীরবন্দরে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল চালক ও ব্যবসায়ী খলিলুর রহমান (৭০), গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে মোটরসাইকেল চালক হামিম মল্লিক (২২) এবং পাবনার জালালপুরে সরকারি এডওয়ার্ড কলেজছাত্র মো. রোমান (২৪) নিহত হয়েছেন।
বারবার ঘটে চলা এসব সড়ক দুর্ঘটনা রোধে মহাসড়কে অবৈধ ও যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং বন্ধ করা এবং ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিক ও বিশেষজ্ঞ মহল। ঘন ঘন এমন প্রাণহানির ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে নিহতদের পরিবার ও এলাকায়।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।