পাঁচ দফা দাবিতে টানা সপ্তম দিনের মতো সড়ক অবরোধ চলায় রাঙামাটির বাঘাইছড়ির সাজেকে পর্যটন ও যোগাযোগব্যবস্থা সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়েছে। পর্যটকশূন্যতায় রিসোর্ট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। এদিকে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় পাহাড়ি এই জনপদে তীব্র খাদ্যপণ্য ও জরুরি ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে, যা স্থানীয়দের মানবিক দুর্ভোগ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- পাঁচ দফা দাবিতে রাঙামাটির বাঘাইছড়ির সাজেক-দীঘিনালা-খাগড়াছড়ি সড়কে টানা সপ্তম দিনের মতো সড়ক অবরোধ চলছে, যার ফলে পর্যটন ও যোগাযোগব্যবস্থা পুরোপুরি স্থবির হয়ে গেছে।
- গত ২৬ অক্টোবর বাঘাইহাটের উজো বাজারে দুই জেলার সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে দীর্ঘ দেড় ঘণ্টা বৈঠক হলেও কোনো সমঝোতা বা অবরোধ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত আসেনি।
- সাজেকের কটেজ মালিক যুবরাজ মিয়া ও পরিবহন নেতা আয়ুস কান্তি চাকমার তথ্যমতে, যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় শত শত শ্রমিক বেকার হওয়ার পাশাপাশি খাদ্য ও জরুরি ওষুধের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
পাঁচ দফা দাবিতে টানা সপ্তম দিনের মতো সড়ক অবরোধ চলায় রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে পর্যটন ও যোগাযোগব্যবস্থা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পর্যটকশূন্যতার কারণে পাহাড়ের অন্যতম জনপ্রিয় এই পর্যটনকেন্দ্রটি এখন অনেকটাই নিস্তব্ধ। সাজেক রাঙামাটি জেলার অন্তর্ভুক্ত হলেও এর পরিবহন, আবাসন ও বিপণন ব্যবসার সঙ্গে খাগড়াছড়ির বড় একটি অংশের যোগাযোগ রয়েছে। ফলে সাজেকের অচলাবস্থার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে খাগড়াছড়ির ব্যবসায়ী ও পরিবহনসংশ্লিষ্টদের ওপরও।
সড়ক অবরোধের ফলে সাজেক-দীঘিনালা-খাগড়াছড়ি সড়কে চলাচলকারী প্রায় সব যানবাহনই বর্তমানে অচল রয়েছে। খাগড়াছড়ি পার্বত্য যানবাহন সমিতির নেতা আয়ুস কান্তি চাকমা জানান, শত শত গাড়ির মালিক, চালক ও শ্রমিক বেকার হয়ে পড়ায় তাদের পরিবারগুলো চরম কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। অন্যদিকে, সাজেকের রিসোর্ট, কটেজ, রেস্তোরাঁ ও দোকানপাট বন্ধ থাকায় মালিকদের আয় বন্ধ হয়ে গেছে, অথচ দোকানভাড়া ও কর্মচারীদের বেতন পরিশোধের চাপ অব্যাহত রয়েছে।
চলমান এই সংকট নিরসনে গত ২৬ অক্টোবর বাঘাইহাটের উজো বাজারে খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির সংসদ সদস্য, দুই জেলার জেলা প্রশাসক এবং অবরোধকারীদের প্রতিনিধিদের মধ্যে প্রায় দেড় ঘণ্টা মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। তবে আন্দোলনকারীদের পাঁচ দফা দাবি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা সত্ত্বেও কোনো সমঝোতা হয়নি এবং অবরোধ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তও আসেনি। আন্দোলনকারীদের নেতা বাবুধন চাকমা দাবি করেন, পর্যটনকেন্দ্র গড়ে ওঠার পর থেকে স্থানীয় পাহাড়িরা ভূমি হারিয়েছেন এবং নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ায় তারা এই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।
দীর্ঘস্থায়ী এই অবরোধের কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের খাদ্যপণ্য ও চিকিৎসাসেবা নিয়ে উদ্বেগ দিন দিন বাড়ছে। সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী এবং জরুরি ওষুধের সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা মিন্টি মালা ও ব্যবসায়ীরা অবিলম্বে উভয় পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসন করে সড়ক যোগাযোগ সচল করার এবং সাধারণ মানুষের মৌলিক ও চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।